রাতদিন ওয়েবডেস্ক : মালদহের ইতিহাস ও দেশভাগের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক নাম শনিবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এল প্রধানমন্ত্রীর জনসভায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভামঞ্চে উচ্চারিত হল শিবেন্দুশেখর রায়ের নাম যিনি এককালে হিন্দু মহাসভার প্রভাবশালী নেতা এবং বর্তমান রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের পিতা।
সেই স্মৃতিচারণ ঘিরে আবেগ থাকলেও সংযত প্রতিক্রিয়াই জানালেন সুখেন্দুশেখর। মালদহের জনসভায় শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে প্রথম উপহার হিসেবে দেওয়া হয় ফ্রেমে বাঁধানো একটি বিরাট ছবি। ছবিটি ছিল শিবেন্দুশেখর রায়ের। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সেই ছবি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে। তৃণমূল সাংসদের বাবার ছবি দিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে মুহূর্তেই কৌতূহল তৈরি হয়।শিবেন্দুশেখর রায় প্রাক্-স্বাধীনতা পর্বে মালদহের একজন খ্যাতনামা আইনজীবী ছিলেন। তিনি হিন্দু মহাসভার মালদহ জেলা সম্পাদক ছিলেন এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় মুসলিম লিগ যখন মালদহকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে অনড় ছিল, তখন সেই সিদ্ধান্ত আটকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন শিবেন্দুশেখর। মালদহকে ভারতের অংশ হিসেবে রাখার লক্ষ্যে তিনি উদ্যোগী হয়ে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ শুরু করেন।বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশনের কাছে মালদহের ইতিহাস, জনবিন্যাস ও তৎকালীন পরিস্থিতি তুলে ধরতে তিনি প্রথমে ব্যারিস্টার এন সি চট্টোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হন। তবে দক্ষিণবঙ্গের সীমান্ত নির্ধারণ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ব্যারিস্টার চট্টোপাধ্যায় মালদহের দায়িত্ব নিতে অপারগতা জানান। তাতে দমে না গিয়ে শিবেন্দুশেখর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শ্যামাপ্রসাদের উদ্যোগেই পরে ব্যারিস্টার চট্টোপাধ্যায় তাঁকে পথনির্দেশ দেন, কী ভাবে তিনি নিজেই কমিশনের কাছে মালদহের ভারতভুক্তির পক্ষে যুক্তি পেশ করতে পারেন। এই কাজে অধ্যাপক বিধুশেখর শাস্ত্রী ও ইতিহাসবিদ স্যার যদুনাথ সরকারও তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বলে জানান সুখেন্দুশেখর রায়।শনিবার প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের শুরুতেই শিবেন্দুশেখরের নাম উল্লেখ করে মোদী বলেন, “আমি সর্বপ্রথম মালদহের মহান সুপুত্র শিবেন্দুশেখর রায়কে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাচ্ছি। যাঁর প্রচেষ্টায় মালদহের পরিচয় বেঁচে রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় আসে মালদহের দেশভাগ-পর্বের ইতিহাস।এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সুখেন্দুশেখর রায় আবেগ সামলেও সংযত থাকেন। তিনি বলেন, “৭৮ বছর আগে আমার বাবা যে ভূমিকা মালদহের জন্য নিয়েছিলেন, তা আজ বিস্মৃত। শুধু গোটা পশ্চিমবঙ্গ নয়, মালদহের বর্তমান প্রজন্মও তাঁর সেই অবদানের কথা জানে না। মালদহের মাটিতে দাঁড়িয়ে এত বছর পরে যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী সেই ইতিহাস মনে করিয়ে দেন, তা হলে বংশজেরা হিসেবে গর্ব অনুভব করাই স্বাভাবিক।”

