রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে পড়ে কার্যত শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে। হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহের মাঝেই বাতাসের মান (AQI) ৩৫০-এর গণ্ডি পেরিয়ে ‘মারাত্মক’ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। পরিস্থিতির অবনতি দেখে দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর করা হয়েছে ‘গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান’ বা ‘GRAP-৩’ পর্যায়ের কঠোর বিধিনিষেধ।
দীপাবলির পর থেকেই দিল্লির আকাশ বিষাক্ত ধোঁয়াশায় ঢাকা পড়েছে। বর্তমান অবস্থাকে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার কিরণ বেদি কোভিডের ভয়াবহ সময়ের সঙ্গে তুলনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের জন্য এই আবহাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেকের মধ্যেই চোখ জ্বালাপোড়া এবং একটানা কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন এখন কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। GRAP-III বিধিনিষেধ অনুযায়ী, মাটি খনন, ঝালাই, রং করা এবং অপ্রয়োজনীয় নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইটের ভাটা, স্টোন ক্রাশার এবং খনি সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সড়কপথে দূষণ কমাতে বিএস-৩ পেট্রল এবং বিএস-৪ ডিজেল চালিত গাড়ি চলাচলে সীমাবদ্ধতা আনা হয়েছে। আন্তঃরাজ্য বাসের ক্ষেত্রেও কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি সরকার এর আগে ‘ক্লাউড সিডিং’ বা কৃত্রিম বৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু কোটি টাকা ব্যয়ের পরও সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাস্তায় জল ছিটিয়ে ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা আর দূষণের দাপটে এখন কার্যত ঘরবন্দি হওয়ার উপক্রম দিল্লিবাসীর।
