Type Here to Get Search Results !

Court Breakthrough : ৯৬ দিনের নীরবতা ভেঙে আদালতে ডাক্তারি পড়ুয়ার জবানবন্দি, চাপে অভিযুক্তরা

 রাতদিন ওয়েবডেস্ক : দুর্গাপুরের বহুচর্চিত ও চাঞ্চল্যকর নির্যাতনকাণ্ডে দীর্ঘ ৯৬ দিনের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে আদালতে শুরু হল নির্যাতিতা তরুণীর সাক্ষ্যগ্রহণ। বিচারকের এজলাসে দাঁড়িয়ে ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি। সাক্ষ্য দিতে গিয়েই সকল অভিযুক্তকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করেন ওই ডাক্তারি পড়ুয়া, যা মামলার গতিপ্রকৃতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।


আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন কীভাবে তাঁকে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল, কারা প্রথম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং ধাপে ধাপে কীভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয় সবটাই বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন নির্যাতিতা। অভিযুক্তদের দিকে আঙুল তুলে তিনি জানান, এতদিন পেরিয়ে গেলেও তাঁদের মুখ, গলার স্বর এবং আচরণ তাঁর স্মৃতিতে আজও দগদগে হয়ে রয়েছে। নির্যাতিতা আদালতে বলেন, ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। পড়াশোনা, স্বাভাবিক জীবন সবকিছুই থমকে গিয়েছিল। তবে ন্যায়বিচারের আশাতেই তিনি সাহস সঞ্চয় করে আদালতে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্যে এজলাসে উপস্থিত অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। 

প্রসঙ্গত, ঘটনার পর তদন্তের গতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নির্যাতিতার পরিবার এবং সমাজের বিভিন্ন মহল। তাঁদের দাবি ছিল, দেরিতে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে প্রমাণ লোপাট ও অভিযুক্তদের প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা বাড়ে। অবশেষে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ায় সেই আশঙ্কা কিছুটা হলেও কাটল বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি কৌঁসুলি জানিয়েছেন, নির্যাতিতার প্রত্যক্ষ ও বিস্তারিত সাক্ষ্য মামলার মেরুদণ্ড। তাঁর বয়ানের সঙ্গে আগেই জমা দেওয়া মেডিক্যাল রিপোর্ট, ফরেনসিক প্রমাণ এবং তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্ট মিলিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও মজবুত হবে। অন্যদিকে অভিযুক্তদের আইনজীবীরা সাক্ষ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা খতিয়ে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

 তাঁদের দাবি, দীর্ঘ সময় পর সাক্ষ্য দেওয়ায় স্মৃতিভ্রংশ বা অসঙ্গতি থাকতে পারে। তবে সরকারি পক্ষের বক্তব্য, নির্যাতিতার বয়ান অত্যন্ত সুসংহত এবং প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নির্যাতিতার নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে আদালতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। ইন ক্যামেরা সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর পরিচয় গোপন রাখার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপুরকাণ্ডে নির্যাতিতার সাক্ষ্যগ্রহণ মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে আরও সাক্ষী ও নথি পেশ হলে এই মামলার রায় কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্যবাসী।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad