রাতদিন ওয়েবডেস্ক : চেতলার যুবক খুনের ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে আলিপুর আদালতে চার্জশিট পেশ করল কলকাতা পুলিশ। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অশোক পাসোয়ান খুনের ঘটনায় মোট ৮৫ পাতার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে সুরজিৎ হালদার ও তাপস পাল এই দুই যুবককে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। চার্জশিটে মোট ৩০ জন সাক্ষীর বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত বছরের অক্টোবরে, দক্ষিণ কলকাতার চেতলার ১৭ নম্বর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে মদের আসরে বন্ধুদের সঙ্গে অশোকের বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, এক অভিযুক্তের স্ত্রীকে ঘিরে বিবাদ থেকেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। সেই সময় আচমকাই অশোকের গলায় শাবল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রায় ১০০ মিটার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন অশোক। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পরই তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রকাশ্য রাস্তায় নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে চেতলা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
ঘটনার পরই তদন্তে নামে চেতলা থানার পুলিশ এবং দ্রুত দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।এই খুনের ঘটনার পর চেতলা থানার তৎকালীন ওসি সুখেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বদলি নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় অমিতাভ সরখেলকে। হঠাৎ ওসি বদলের সিদ্ধান্ত ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠলেও পুলিশকর্তারা স্পষ্ট করেন, এটি খুনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়। তাঁদের দাবি, সুখেন্দু মুখোপাধ্যায়ের পদোন্নতি আগেই নির্ধারিত ছিল।চার্জশিট পেশের মাধ্যমে এই মামলায় বিচারপ্রক্রিয়ার পথ আরও এক ধাপ এগোল বলে মনে করছে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতেই আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা লড়বে রাজ্য।
