রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান যখন অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে তখনও মেয়েদের স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের সমাজে বেশ কিছু প্রাচীন ও ভ্রান্ত ধারণা শিকড় গেড়ে বসে আছে। সুস্থ থাকতে মহিলাদের এই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পিরিয়ডের সময় শরীরচর্চা করা বারণ অনেকেই মনে করেন পিরিয়ড চলাকালীন ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত করলে শরীরের ক্ষতি হয়,কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন একদম উল্টো কথা। হালকা ব্যায়াম বা যোগাসন এই সময়ে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে এবং পেটের যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ভারী ওজন তোলা বা খুব পরিশ্রমের কাজ না করাই ভালো। সঠিক ডায়েট শরীরচর্চা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে এই সময়ের পরেও মহিলারা অত্যন্ত সুস্থ ও সক্রিয় জীবন কাটাতে পারেন। পিরিয়ডের রক্ত অশুদ্ধদীর্ঘকাল ধরে সমাজে প্রচার করা হয়েছে যে পিরিয়ডের রক্ত অশুদ্ধ বা নোংরা। বৈজ্ঞানিক ভাবে এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পিরিয়ডের সময় শরীর থেকে মূলত জরায়ুর দেওয়ালের অতিরিক্ত আবরণ এবং রক্ত বেরিয়ে যায়।
এটি একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া এর সাথে শুদ্ধ-অশুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নেই। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শরীরচর্চা ক্ষতিকর গর্ভবতী মহিলাদের সারাদিন শুয়ে-বসে থাকার পরামর্শ দেন অনেকে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে কোনো শারীরিক জটিলতা না থাকলে গর্ভাবস্থায় সচল থাকা মা এবং সন্তান-উভয়ের জন্যই জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা হাঁটাচলা বা প্রেগন্যান্সি সেফ ব্যায়াম করলে প্রসবের সময় জটিলতা কম হয়। যোনিপথ থেকে সামান্য সাদা স্রাব হওয়া শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটি শরীর নিজেই নিজেকে পরিষ্কার রাখার জন্য করে। অনেকেই একে সবসময় ইনফেকশন ভেবে ভুল করেন। যদি স্রাবের রঙ অস্বাভাবিক হয় দুর্গন্ধ থাকে বা চুলকানি হয় তবেই সেটি চিন্তার বিষয় এবং তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে হলে এই পুরনো ধারণাগুলো ভেঙে বেরিয়ে আসা জরুরি।
