রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি না হলেও কলকাতাকে বৃষ্টির ঝাপটে ভাসিয়ে দিল ' ডানা' । শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হওয়া বর্ষণে জলমগ্ন হয়ে পড়ে কলকাতার বিভিন্ন এলাকা। শুক্রবার রাতেও বিভিন্ন এলাকায় জল জমে যাওয়ায় যেই নাকানিচোবানি খেতে হয়েছিল নাগরিকদের শনিবারও কিছুটা একই অবস্থা বজায় থাকবে বলেই আশঙ্কা বেশ কিছু জায়গায়। কোথাও হাটু সমান জল তো কোথাও গোড়ালি পর্যন্ত। উত্তর ও মধ্য কলকাতা মিলিয়ে কলেজ স্ট্রিট বিধান সরণি লোয়ার রোডন বালিগঞ্জ-আলিপুর যোধপুর পার্ক চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ বিটি রোড ইত্যাদি জায়গা রাত পর্যন্ত জলে ডুবে ছিল। এমনকি কলকাতা ও হাওড়ায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে জমা জলের কারণে।
এই সুযোগেই জল যন্ত্রণা নিয়ে শাসকদলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিরোধী দলগুলি। তাঁদের দাবি ফির বছর পুরসভার বাজেটে নিকাশি জল নিকাশি টাকা বরাদ্দ করা হয়। তা সত্ত্বেও ও বর্ষার সময় আসলেই জল যন্ত্রণায় ভুগতে হয়, কলকাতা বাসীদের। অন্যদিকে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, " রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে শহরে ঘন্টায় কুড়ি মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হলে সেই জল বার করার ক্ষমতা নিকাশি পাম্পিং স্টেশন রয়েছে কিন্তু দুপুর পর্যন্ত শহরের বেশিরভাগ অংশে ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে তার উপরে গঙ্গার জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ভাটার সময়ও গঙ্গা লাগোয়া লকেট গুলি বন্ধ রাখতে হয়েছে ফলে জল ছুটতে দেরি হয়েছে।" তিনি আরো বলেন নতুন করে বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলে জল নেমে যাবে । অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র তথা রাজ্যসভার সাংসদ শ্রমিক ভট্টাচার্য শাসক দলের বিরুদ্ধে বলেন, " ১৪ বছর পুরসভায় ক্ষমতায় থাকার পরেও নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতিতে এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ব্যবস্থা গড়ে তোলায় মৌলিক কোনো কাজই করেনি তৃণমূল।" তাৎপর্যপূর্ণভাবে কলকাতা পুরসভার কন্ট্রোল রুমের সামনেই দীর্ঘক্ষন জল জমেছিল এদিন।
তুমুল বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকলেও জরুরী বা পেশাগত কারণে যারা রাস্তায় বেরিয়েছিলেন তাদের জল যন্ত্রণায় ভুগতে হয়েছে। এর উপরে দোসর ছিল কাকুরগাছি এবং পাতিপুকুর ব্রিজের নিচের বন্ধ রাস্তা। হাওড়ায় টিকিয়াপাড়া রামরাজতলা সহ ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের জল জমে যাওয়ায় এলাকাবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পুর ভোট হয়না, ফলস্বরূপ পুর পরিষেবা থেকে মানুষ বঞ্চিত। এদিন জল জমে যায় বেনারস রোড বেলগাছিয়া মোড় ডুমুর স্টেডিয়াম বেলিলিয়াস লেনে। তৃণমূল সংসদ সৌগত রায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, " এর আগেও এখানে বৃষ্টিতে জল জমেছে কলকাতা পুরসভা কে বহুবার বলেও কাজ হয়নি। যদিও পুরো প্রতিনিধি মৌসুমী দাস জানান, " এই এলাকা মাটির মত। আগের ৩-৪ দিন ধরে থাকতো এখন তিন চার ঘন্টার মধ্যে জল নেমে যায়। " দমদমের মত ব্যস্ততম জায়গার তিনটি পুরসভা ও দিন জলমগ্ন ছিল বাগজোলা সহ একাধিক খাল কানায় কানায় ভর্তি ছিল জলে। দক্ষিণ দমদম পৌরসভার সুভাষ নগর মোড়, জগদীশ পল্লী আর এন গুহ রোডেও জল জমে ছিল । সল্টলেক সহ বিধান নগর এলাকাতে গাছ ভেঙে পড়ে যায়, জল জমার খবর পাওয়া যায় ৫ নম্বর সেক্টর থেকেও।

