Type Here to Get Search Results !

Kolkata High Court : 'দশচক্রে ভগবানও ভূত হয়' মানিক মামলায় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য

 রাতদিন ওয়েবডেস্ক  :   'দশচক্রে ভগবানও ভূত হয়'  মানিক মামলায়  বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য ।   বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে  মানিক মামলার শুনানি হল আজ । নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে  মানিক  ভট্টাচার্য ( Manik Bhattacharya ) কে ইডি গ্রেফতার করেছিল । আজ এই মামলার  মানিক কে সওয়াল জবাব  করা হয় কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ( Abhijit Gangopadhyay ) এর এজলাসে । আজ দুপর প্রায় ২.৪৫ মিনিতে তাকে তোলা হয়  বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে । তারপর শুরু হয় বিচারপতি ও  মানিকের মধ্যে প্রশ্ন ও উত্তরের পালা । বিচারপতির পক্ষ থেকে  তাঁকে প্রথম  প্রশ্ন করা হয়, ‘‘২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে কী জানেন?’’ এর উত্তরে মানিক বলেন, আমি জেলে রয়েছি। আমার কাছে কোনও তথ্য বা নথি নেই। আদালত ডেকেছে তাই এসেছি। স্মরণে যা আছে তাই বলতে পারি। পাল্টা বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সিলেকশন কমিটি তৈরি করা হয়েছিল?  এর উত্তরে ফের মানিক বলেন,  হ্যাঁ, করা হয়েছিল। কিন্তু আমি কী ভাবে এগুলো বলতে পারি? যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা পর্ষদ নিয়েছিল।

পাল্টা বিচারপতি  প্রশ্ন  ছুরে দিয়ে বলেন,  পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি হিসাবে আপনার কাছে এগুলো জানা যেতেই পারে। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফল কে প্রকাশ করেছিল? এর উত্তরে ফের মানিক বলেন,  এটা আমি বলতে পারি না। বিশেষ করে এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছেই বোধগম্য নয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ার মোট নম্বর বিভিন্ন বিভাগ একসঙ্গে মিলে তৈরি করে। ফের বিচারপতি  প্রশ্ন করেন,  বাইরের কোনও সংস্থাকে রেজ়াল্ট প্রস্তুত করার জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল? এর উত্তরে ফের মানিক বলেন, এই পুরো প্রক্রিয়া পর্ষদ পরিচালনা করেছে। তবে হ্যাঁ, একটি সংস্থাকে নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন তার নাম স্মরণে নেই। ফের বিচারপতির প্রশ্ন,  এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানি নামে কোনও সংস্থার নাম শুনেছেন? এই প্রশ্নে মানিক বলেন ,হ্যাঁ, ওই ধরনের নাম শুনেছি। মানিকের এই উত্তরে বিচারপতি বলেন,সভাপতি হিসাবে আপনার সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা কি ঠিক? এই প্রশ্নে মানিক বলেন, অ্যাপ্টটিটিউড টেস্ট নেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন ঃ Lifestyle : এখন মাত্র ৫০ টাকায় কিনে নিন নিজের পছন্দসই জামা

তখন কেউ কোনও অভিযোগ করেনি। এমন কোনও রিপোর্ট আমার কাছে আসেনি। ফের বিচারপতি  প্রশ্ন করেন,  ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ নীতি মানা হয়েছিল— এটা আপনি নিশ্চিত করে বলতে পারবেন? এই উত্তরে মানিক বলেন, যত দূর মনে পড়ছে আইন অনুযায়ী হয়েছিল। মানিকের এই উত্তরে বিচারপতি  অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন  ঠিক আছে। এখন আমার আর কিছু জানার নেই। আপনি যে বয়ান দিয়েছেন তাতে স্বাক্ষর করে চলে যাবেন। বিচারপতির বক্তব্য শুনে মানিক ভট্টাচার্য বলেন,  কিন্তু আমি যা বলেছি তার কোনও তথ্য নেই। আমার যা মনে ছিল, তাই বলেছি। তবে যাওয়ার আগে একটা অনুরোধ করব। এই সংক্রান্ত যে কোনও মামলায় দরকার পড়লেই আমাকে ডেকে পাঠাবেন। ১৫ মিনিট আগে বললেই হবে। আমি চলে আসব। পরে আমার বিরুদ্ধে যাই পদক্ষেপ করা হোক, আমি মেনে নেব।একটু  থেমে মানিক আরও বলেন, আমি সত্যিটাই বলতে চাই।


সত্য সহজ, সত্য সুন্দর। মানিকের এরূপ মন্তব্য শুনে বিচারপতি তাকে জিজ্ঞাসা করেন,  আপনার বিরুদ্ধে গিয়েছে, এমন কিছু হয়েছে?  তার উত্তরে মানিক বলেন, যখন এই পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল, তখন কেউ ছিল না। দরজায় দরজায় কড়া নেড়েছিলাম। কেউ সাহায্য করেনি। আজও আদালতে আমার একই অবস্থা।মানিকের এমন অভিযোগ শুনে বিচারপতি বলেন,  উনি একজন সম্মাননীয় ব্যক্তি। চা দেবেন। দেখবেন, অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটে। আদালত শুধু সত্যি জানতে চায়। উনি সাহায্য করেছেন। এরপর মানিক করজোড়ে বিনীত ভাবে  বিচারপতি কে অনুরোধ  করে বলেন, আপনিই বিচার করুন। সত্য সামনে আসুক। সত্য সুন্দর। মানিকের এই অনুরোধ শুনে  শেষ করা হয় সেই দিনের মত  প্রশ্ন উত্তরের পালা । এরপর প্রায় ১০ মিনিট পর্যন্ত   মানিক ও বিচারপতিকে  একান্তে কোথাও বলতে দেখা  গিয়েছে । 

 












Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad