রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ইডেন গার্ডেন্সে দুই দলের প্র্যাকটিস চলছিল পুরোদমে, কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির দাপটে সব পরিকল্পনাই ভেস্তে গেল। লখনৌ সুপার গেইন্টস-এর ওপেনার মিচেল মার্শ তখন নেটে জোরে জোরে শট খেলছিলেন। অন্যদিকে কলকাতা নাইট রাইডার্স-এর কলকাতা নাইট রাইডার্স নিজের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। আচমকাই বৃষ্টি নামায় মাঠকর্মীরা দ্রুত পিচ ঢাকার কাজে নেমে পড়েন। ইতিমধ্যেই পিচ ঢেকে রাখা ছিল, তবে নেট গুটিয়ে নেওয়ার তাড়াহুড়ো শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে রিঙ্কু সিং ও রামনদীপ সিং-রা ড্রেসিংরুমের দিকে ফিরে যান।
লখনউয়ের প্র্যাকটিসও বাধাগ্রস্ত হয়। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে কিছুক্ষণ আরও অনুশীলন চালিয়ে যান তিনি। তাঁর ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে চাপ স্পষ্ট। তিন ম্যাচে মাত্র ২৪ রান করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই অজি অলরাউন্ডার। ২৫ কোটির মূল্য ট্যাগের চাপও যে তাঁকে প্রভাবিত করছে, তা তাঁর অনুশীলনের তীব্রতা দেখেই বোঝা যায়। যদিও বল হাতে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত, কারণ বৃষ্টির জন্য তিনি বোলিং করার সুযোগই পাননি।বৃহস্পতিবারের ম্যাচ ঘিরে বড় প্রশ্ন আবহাওয়া কি ফের বাধা হয়ে দাঁড়াবে আবহাওয়া দফতরের মতে, সকালে বৃষ্টি হলেও বিকেলের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা বেশি। তবে কলকাতার কালবৈশাখী অনিশ্চিত, তাই ম্যাচ ঘিরে দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। এদিকে কেকেআরের পারফরম্যান্স চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিন ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট তাও আবার বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার ফলে। ফলে অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছেন। এই ম্যাচেও হার হলে নেতৃত্ব বদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গত ম্যাচে সারুখ খান দলের ক্রিকেটারদের উৎসাহ দিতে উপস্থিত ছিলেন, তবে সেই অনুপ্রেরণা মাঠে ফল দেবে কি না, সেটাই এখন দেখার।
খারাপ ফর্মের জন্য ভারুন চক্রবর্তী-র জায়গা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্র্যাকটিসের সময় তাঁকে মাঠে না দেখে ইনডোরে সময় কাটাতে দেখা গেছে। তবে দলে ফিরতে পারেন সুনীল নারাইন। তিনি নেটে দীর্ঘক্ষণ বল করেছেন, যা দলের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত।লখনউয়ের ব্যাটিং লাইনআপ যথেষ্ট শক্তিশালী। এইডেন মার্করাম ও মিচেল মার্শ এখনও ছন্দে না থাকলেও বিপজ্জনক। তার উপর রয়েছেন দুরন্ত ফর্মে থাকা ঋষভ পন্ত, যিনি আগের ম্যাচে দলকে জিতিয়েছেন। এছাড়া নিকোলাস পুরান যে কোনও সময় ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন।পিচ নিয়েও আলোচনা চলছে। গত কয়েকদিন ধরে পিচ ঢাকা থাকায় আর্দ্রতা বেশি থাকবে, যা নতুন বলে পেসারদের সাহায্য করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মোহাম্মদ শামি বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন। গত ম্যাচে তাঁর ৪ ওভারে ৯ রানে ২ উইকেট নেওয়া পারফরম্যান্স যথেষ্ট প্রশংসিত হয়েছে। ইডেন তাঁর জন্যও পরিচিত মাঠ, তাই তিনি বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামবেন।সব মিলিয়ে ম্যাচটি শুধু দুই দলের লড়াই নয়, বরং আবহাওয়া, ফর্ম, কৌশল সবকিছুর পরীক্ষাও বটে। কেকেআর হয়তো ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আনতে পারে এবং বিকল্প পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখছে। এখন দেখার, এই চাপের ম্যাচে কারা নিজেদের প্রমাণ করতে পারে।
