Type Here to Get Search Results !

TMC Vs BJP : নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপির সেয়ানে সেয়ানে লড়াই

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম সীমান্ত শহর বনগাঁ। যত দিন যাচ্ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। বিশেষ করে বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা। নির্বাচনী প্রচারের ময়দানে একে অপরকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ দুই শিবির। রবিবাসরীয় ছুটির আমেজকে কাজে লাগিয়ে দুই দলের প্রার্থীরাই এদিন কোমর বেঁধে নেমে পড়েন জনসংযোগে।বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস এদিন সকাল থেকেই ছিলেন ফুরফুরে মেজাজে। 

দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের বিশাল মিছিল নিয়ে তিনি পৌঁছে যান বনগাঁ পুরসভার অন্তর্গত কালীবাড়ি বাজারে। বাজারের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষ সবার সঙ্গেই হাসিমুখে কথা বলেন তিনি। কেউ তাকে দেখে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন, কেউ বা আবার আবেগে আপ্লুত হয়ে প্রার্থীকে বুকে জড়িয়ে ধরছেন।বাজারের প্রচার সেরে বিশ্বজিৎবাবু পা বাড়ান ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন এলাকায়। সেখানে স্থানীয় কাউন্সিলর টুম্পা রায়কে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালান তিনি। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মানুষ ঠিকমতো পাচ্ছেন কি না, সেই খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান। প্রচার চলাকালীন বিশ্বজিৎ দাস আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, "মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা এবং যে বিপুল সাড়া আমরা পাচ্ছি, তাতে বিজেপি রীতিমতো ভয় পেয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের এই আশীর্বাদই বলে দিচ্ছে যে, বিজেপির পরাজয় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।"তৃণমূল যখন জনসংযোগে ব্যস্ত, তখন বসে নেই বিজেপিও। বনগাঁ উত্তরের বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়াও এদিন রবিবাসরীয় প্রচারে ঝড় তোলেন। তাঁর প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বনগাঁ টবাজার এবং নেতাজি মার্কেট এলাকা। বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি। বর্তমান সরকারের আমলে ব্যবসায়ীদের কী কী প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, সেই অভাব-অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন অশোকবাবু।পরবর্তীতে তিনি পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার সারেন। কেন্দ্রের মোদী সরকারের সাফল্য এবং রাজ্যের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করেন তিনি। বিজেপির দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনের মতো এবারও বনগাঁর মানুষ পদ্ম ফুটিয়েই দুর্নীতিমুক্ত সরকার গড়তে সাহায্য করবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রে লড়াই এবার বেশ কঠিন। একদিকে বিশ্বজিৎ দাসের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা ও তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি, অন্যদিকে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী ভোটব্যাঙ্ক ও মতুয়া ফ্যাক্টর সব মিলিয়ে দুই পক্ষই এখন তুঙ্গে। নির্বাচনী জনসভা, দেওয়াল লিখন কিংবা মিছিলে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার এই যে প্রবণতা, তা সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও কৌতূহল বাড়াচ্ছে।রবিবারের এই জমজমাট প্রচার অন্তত এটাই প্রমাণ করে দিল যে, বনগাঁর নির্বাচনী লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হলেও, প্রচারের লড়াইয়ে আপাতত কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র জমি ছাড়তে রাজি নয়।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad