রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। এই কেন্দ্রে মূল লড়াইয়ে মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মনোনয়ন পর্ব থেকেই এই লড়াই যে কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং ‘মেরুকরণ’ বনাম ‘বহুত্ববাদ’-এর প্রতীকী সংঘর্ষতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমার সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, যা ঘটনাটিকে বিশেষ তাৎপর্য দেয়। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন ঘিরেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, কারণ তৃণমূল কংগ্রেস এবার এই প্রক্রিয়াকেই একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন জমা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে থাকবেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং অন্যান্য নেতারা। তবে এ বারের মনোনয়নের বিশেষ দিক হল, প্রস্তাবকদের তালিকায় প্রতিফলিত হবে ভবানীপুরের বহুত্ববাদী চরিত্র।তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রস্তাবকদের মধ্যে থাকবেন বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। যেমন ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী রুবি হাকিম, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি বাবলু সিংহ এবং ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির মীরজ শাহ। এই তালিকার মাধ্যমে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা তুলে ধরাই দলের লক্ষ্য। ভবানীপুর কেন্দ্রটি নিজেই এক বৈচিত্র্যময় এলাকা। এখানে বাঙালি অধ্যুষিত ওয়ার্ডের পাশাপাশি গুজরাতি, পঞ্জাবি, মাড়োয়ারি এবং জৈন সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের বসবাস রয়েছে। এছাড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এবং বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা মানুষের বাস এই কেন্দ্রকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ রূপ দিয়েছে। এই সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকেই রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন মমতা।মনোনয়নের দিন একটি বড় মিছিল করে সার্ভে বিল্ডিংয়ে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই মিছিলেও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য ভোটের আগে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা।তৃণমূল নেতাদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী বরাবরই সব ধর্ম-বর্ণ-ভাষার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলার বার্তা দিয়েছেন। তাই তাঁর মনোনয়নেও সেই প্রতিফলন দেখা যাবে। প্রস্তাবক হিসেবে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করা দলের কর্মীদের কাছেও বিশেষ সম্মানের বিষয়।সব মিলিয়ে, ভবানীপুরের এই নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং একটি বৃহত্তর আদর্শগত সংঘর্ষের মঞ্চ হয়ে উঠছে। একদিকে যেখানে মেরুকরণের রাজনীতি, অন্যদিকে সেখানে বহুত্ববাদ ও সহাবস্থানের বার্তা এই দুইয়ের লড়াইই আগামী দিনে এই কেন্দ্রের ভোটে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে চলেছে।

