রাতদিন ওয়েবডেস্ক : থিয়েটার ব্যক্তিত্ব গৌতম হালদার আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে নিজের মতামত স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতির পারস্পরিক সম্পর্কের একটি গভীর বিশ্লেষণ। তিনি মনে করেন, নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি মানুষের চিন্তাভাবনা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধেরও প্রতিফলন। গৌতম হালদার বলেন, একজন শিল্পী হিসেবে তিনি সবসময় সমাজের পরিবর্তনকে কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করেন এবং সেই পরিবর্তন তাঁর কাজেও প্রতিফলিত হয়।
তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা অনেক বেড়েছে, কিন্তু সেই সচেতনতার পাশাপাশি সহনশীলতা এবং ভিন্নমতকে সম্মান করার প্রবণতা কমে যাচ্ছে, যা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতির জগৎ কখনওই রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না, কারণ সমাজের প্রতিটি পরিবর্তন শিল্পের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, মানুষের উচিত শুধুমাত্র আবেগের বশে নয়, বরং যুক্তি ও বিবেচনার ভিত্তিতে নিজেদের মতামত গঠন করা এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া। তিনি মনে করেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো মানুষের স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং সেই স্বাধীনতাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করাই নাগরিকদের প্রধান দায়িত্ব। গৌতম হালদার এও বলেন যে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মতামত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, কিন্তু একইসঙ্গে সেখানে ভুয়ো খবর এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রভাবও বেড়েছে, যা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে।
তাই তিনি সকলকে সচেতন থাকার এবং তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেরই উচিত সমাজের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করা এবং শুধুমাত্র ব্যক্তিগত লাভক্ষতির হিসাব না করে সামগ্রিক উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া। তিনি আরও বলেন, শিল্পীরা সমাজের বিবেক হিসেবে কাজ করেন এবং তাঁদের দায়িত্ব হলো মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া। আসন্ন নির্বাচনে সেই দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়, কারণ এই সময়ে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গৌতম হালদার আশা প্রকাশ করেন যে, মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবে এবং একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখবে। তাঁর মতে, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং সৌহার্দ্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশ্বাস করেন, শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সমাজকে আরও মানবিক ও সহনশীল করে তোলা সম্ভব এবং সেই লক্ষ্যে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
