Type Here to Get Search Results !

America Vs England: আমেরিকা-ইরান সংঘাতে সাময়িক বিরতি, আলোচনার পথে দুই দেশ

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এল, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করলেন যে আমেরিকা ও ইরান আপাতত দুসপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই ঘোষণার পরই ইরান দাবি করে যে যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায়ই এই বিরতি সম্ভব হয়েছে। যদিও এই যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণ নিঃশর্ত নয় ইরান আমেরিকার কাছে ১০ দফা শর্ত পেশ করেছে, যা নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। 

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পাঠানো প্রস্তাবগুলির বেশিরভাগই দুই দেশ নীতিগতভাবে মেনে নিতে রাজি হয়েছে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে আলোচনার ফল ইতিবাচক হবে। তিনি এই পরিস্থিতিকে “দু’তরফের যুদ্ধবিরতি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ইরান হরমুজ় প্রণালী খুলে দিতে সম্মত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ইজ়রায়েল আচমকা ইরানের উপর সামরিক হামলা চালায়। পরে সেই অভিযানে যোগ দেয় আমেরিকা। 

এর প্রত্যাঘাত হিসেবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ শুরু করে, এবং ধীরে ধীরে তা পূর্ণমাত্রার সংঘাতে পরিণত হয়। ফলে গোটা পশ্চিম এশিয়াজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান হরমুজ় প্রণালী অবরোধ করার হুঁশিয়ারি দেয় এবং কিছু ক্ষেত্রে তা কার্যকরও করে। এই প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ, যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এর অবরোধ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করে। যদিও পরবর্তীতে ভারত-সহ কয়েকটি নিরপেক্ষ দেশের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয় ইরান, তবে আমেরিকা, ইজ়রায়েল এবং তাদের মিত্রদের জন্য পথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বজায় রাখে।পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার একটি চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেন।

 তিনি হুঁশিয়ারি দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি ইরান হরমুজ় প্রণালী খুলে না দেয়, তাহলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এমনকি ইরানকে “পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার” মতো মন্তব্যও করেন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে, যা আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তি এনে দেয়।বর্তমানে দুই দেশই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগোতে আগ্রহী বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও এই যুদ্ধবিরতি সাময়িক, তবুও এটি ভবিষ্যতের স্থায়ী শান্তির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ইরানের ১০ দফা শর্ত নিয়ে আলোচনা কতটা সফল হয় এবং এই বিরতি আদৌ দীর্ঘস্থায়ী শান্তিতে রূপ নেয় কি না।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad