রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে স্পেশাল ইনফরমেশন রিকোয়েস্ট বা এসআইআর প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। শনিবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়েছে যে, এবারের তালিকায় বড়সড় রদবদল ঘটেছে এবং প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ জনের। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ২২ হাজার ৬৪২ এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৪৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ২৬০।
এছাড়া তালিকায় স্থান পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। নতুন ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জন হলেও, এবারের তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার সংখ্যাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফর্ম ৭-এর মাধ্যমে এবং ইআরও এবং এইআরও-দের পর্যবেক্ষণে সব মিলিয়ে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, প্রায় ৫৮ লক্ষের বেশি এনুমারেশন ফর্ম জমা না পড়ায় এবং ভোটারদের অনুপস্থিতির কারণেই এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দিতে হয়েছে। তবে এই তালিকাটিই শেষ কথা নয়; বর্তমানে আরও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা যুক্তিসঙ্গত অসঙ্গতির তালিকায় রয়েছে, যাদের ভাগ্য এখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ৫০০ জন জুডিশিয়াল অফিসারের হাতে। এই অফিসাররা ভোটারদের নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করছেন এবং সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ধাপে ধাপে যোগ্য ভোটারদের নাম মূল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে কমিশন আরও জানিয়েছে যে, তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অনিয়ম করা হয়নি বরং যথাযথ নিয়ম মেনেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
যদি কোনো ভোটারের মনে হয় তাঁর নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তবে তিনি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক-এর কাছে আপিল করতে পারবেন। কমিশন সাফ জানিয়েছে, ভোটারদের খোঁজা তাদের দায়িত্ব নয়, বরং ভোটারদের উচিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য প্রদান করা। ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং কোনো আধিকারিকের গাফিলতি বা ইচ্ছাকৃত ভুল পাওয়া গেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৬ জন ভোটারকে স্থানান্তরিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বাকি ৬০ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন সিইও। মূলত স্বচ্ছ ও নির্ভুল একটি ভোটার তালিকা তৈরি করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য, যাতে আসন্ন নির্বাচনে কোনো ভুয়ো বা মৃত ভোটারের অস্তিত্ব না থাকে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিটি বৈধ নাগরিক তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকায় এই বড় ধরণের পরিবর্তন আগামী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

