রাতদিন প্রতিবেদন : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘির জনসভা থেকে রাজ্যের সরকারি কর্মী ও যুবসমাজের উদ্দেশে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র দ্বিতীয় দিনে কার্যত নির্বাচনী ইস্তাহারের ইঙ্গিত মিলল তাঁর বক্তব্যে।রাজ্যের সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীরা গত ১৫ বছরে মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক সহযোগিতা করেছেন, কিন্তু তাঁদের জন্য সরকার কী করেছে? তাঁর দাবি, দেশের অধিকাংশ রাজ্যে ইতিমধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হয়েছে এবং অষ্টম বেতন কমিশনের প্রস্তুতিও চলছে, অথচ পশ্চিমবঙ্গে এখনও ষষ্ঠ বেতন কমিশন চালু রয়েছে।
তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে।শুধু কর্মরত কর্মচারীই নন, চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত শূন্য সরকারি পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ ও ঘুষমুক্ত। পাশাপাশি বহু স্থায়ী পদ তুলে দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে তিনি জানান, বিজেপি সরকার এলে দু’মাসের মধ্যে লুপ্ত পদ পুনরুজ্জীবিত করা হবে।দীর্ঘ দিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকায় বহু যুবক বয়সসীমা পেরিয়ে গিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন শাহ। তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিজেপি সরকার এলে বয়সসীমায় পাঁচ বছরের বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে, যাতে বঞ্চিত প্রার্থীরাও সুযোগ পান।সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, পরিবর্তন মানে কেবল ক্ষমতা দখল নয়; বরং অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তাহীনতা থেকে মুক্তি। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গে পরিণত করা হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিরোধিতা না হলে বহু শরণার্থী ইতিমধ্যেই নাগরিকত্ব পেতেন।
হিন্দু শরণার্থীদের উদ্দেশে তাঁর আশ্বাস, নাগরিকত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কেও আক্রমণ করে শাহ বলেন, ভুল করলে রাজ্যে ‘ভাইপোর শাসন’ কায়েম হবে। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ, পুর নিয়োগ, রেশন ও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারকে রাজ্যসভা প্রার্থী করার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন।পঞ্চায়েত নির্বাচনে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে শাহ সতর্কবার্তা দেন, বিজেপি সরকার এলে আইনশৃঙ্খলা কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উল্লেখ্য, সোমবারই হাওড়ার আমতা, উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি, বীরভূমের হাসন এবং উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা হয়। আমতায় উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, সন্দেশখালিতে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান এবং হাসনে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন ইসলামপুরে কর্মসূচির সূচনা করেন।রায়দিঘির সভা থেকেই স্পষ্ট, নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মী ও যুবসমাজকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক লড়াই তীব্র হতে চলেছে।

