Type Here to Get Search Results !

NASA : মহাকাশে নিয়ন্ত্রণ হারাল নাসা, পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ল ৬০০ কেজির স্যাটেলাইট

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-র একটি কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট দীর্ঘ ১৪ বছর মহাকাশে কাটিয়ে অবশেষে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে আছড়ে পড়েছে, যা বিজ্ঞান মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ২০১২ সালের আগস্ট মাসে "নাসা ভ্যান অ্যালেন প্রোব এ" নামক এই ৬০০ কেজি ওজনের স্যাটেলাইটটিকে মহাকাশে পাঠিয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল পৃথিবীর বিকিরণ বলয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্রে আটকে থাকা ইলেকট্রন ও প্রোটনের মতো কণাগুলিকে পর্যবেক্ষণ করা, যা সৌর ঝড় বা ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করে। 

প্রাথমিকভাবে মাত্র দুই বছরের অভিযানের পরিকল্পনা থাকলেও এই স্যাটেলাইটটি টানা সাত বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে গিয়েছিল এবং ২০১৯ সালে এর জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর নাসা এটিকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন যে এটি ২০৩৪ সাল পর্যন্ত মহাকাশেই তার কক্ষপথে থাকবে, কিন্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বিস্তার বৃদ্ধি এবং মহাকাশের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাশার অনেক আগেই এর কক্ষপথের উচ্চতা কমতে শুরু করে এবং এটি পৃথিবীর আকর্ষণে নিচের দিকে নেমে আসে। গত বুধবার পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আকাশ দিয়ে এটি তীব্র গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে প্রচণ্ড ঘর্ষণে এর বেশিরভাগ অংশই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। যদিও নাসা আগে থেকেই আশ্বস্ত করেছিল যে এই অনিয়ন্ত্রিত পতনে জনবসতি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা ৪,২০০ ভাগের মধ্যে মাত্র এক ভাগ, কারণ পৃথিবীর বড় অংশই জলভাগ এবং অবশিষ্ট অংশগুলো সমুদ্রেই পড়ার কথা ছিল। বাস্তবেও তেমনটাই ঘটেছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন স্যাটেলাইটের কিছু ছোটখাটো অংশ হয়তো পুরোপুরি ধ্বংস না হয়ে সমুদ্রে বা নির্জন এলাকায় পড়ে থাকতে পারে যার অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। নাসার এই পর্যবেক্ষণ মিশনটি সমাপ্ত হলেও এটি মহাকাশের আবহাওয়া এবং পৃথিবীর সুরক্ষা বলয় সম্পর্কে এমন কিছু অমূল্য তথ্য দিয়ে গেছে যা আগামী দিনের মহাকাশ গবেষণায় মাইলফলক হয়ে থাকবে। এই ঘটনাটি মহাকাশে ক্রমবর্ধমান 'স্পেস জাঙ্ক' বা মহাকাশ বর্জ্য এবং পুরনো কৃত্রিম উপগ্রহগুলোর অনিয়ন্ত্রিত পতন নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে, কারণ ভবিষ্যতে আরও অনেক পুরনো স্যাটেলাইট একইভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। মূলত নাসার পক্ষ থেকে এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি স্বাভাবিক বিবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে, তবে অনিয়ন্ত্রিত পতন হওয়ায় শেষ মুহূর্তে এর গতিপথ নিয়ে সামান্য উদ্বেগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা কোনো বিপত্তি ছাড়াই প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে বিলীন হয়ে গেছে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad