রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তাঁর আক্রমণাত্মক কূটনীতির পরিচয় দিলেন। পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েল সংঘাতের আবহে দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ ব্রিটেনের সহযোগিতার প্রস্তাবকে কার্যত নসাৎ করে দিয়েছেন তিনি। শুধু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানই নয়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারকে লক্ষ্য করে রীতিমতো বিদ্রুপ ও কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, যখন সাহায্যের প্রয়োজন ছিল তখন ব্রিটেন পাশে দাঁড়ায়নি, আর এখন যখন আমেরিকা যুদ্ধে জিতে গিয়েছে বলে তিনি মনে করছেন, তখন আর ব্রিটিশ রণতরীর কোনো প্রয়োজন নেই।
গত শনিবার গভীর রাতে নিজের সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন যে, ব্রিটেন এক সময় আমেরিকার সবচেয়ে মহান বন্ধু ছিল, কিন্তু বর্তমানে তাদের অবস্থান নিয়ে তিনি চরম অসন্তুষ্ট। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সম্প্রতি জানিয়েছিল যে তারা পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য প্রিন্স অফ ওয়েলস নামক বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর কথা ভাবছে। এর উত্তরে ট্রাম্প অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, ঠিক আছে প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার, আমাদের ওগুলো আর চাই না। তবে আমরা মনে রাখব, আমরা যুদ্ধে জিতে যাওয়ার পর সেই যুদ্ধে কেউ যোগ দিক, সেটা আমরা চাই না। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের ঐতিহাসিক বিশেষ সম্পর্ক বা স্পেশাল রিলেশনশিপে বড়সড় ফাটল ধরার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই সংঘাতের সূত্রপাত মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে, যখন আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন। সেই সময় থেকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ট্রাম্পের অভিযোগ, সেই সংকটকালীন মুহূর্তে ব্রিটেন আমেরিকাকে কোনো সামরিক সাহায্য করেনি, এমনকি ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিতেও গড়িমসি করেছিল।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার তখন যুক্তি দিয়েছিলেন যে, মার্কিন সেনাকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়ার আগে তাঁদের নিশ্চিত হতে হবে যে সেই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বৈধ কি না। স্টার্মারের এই সতর্ক অবস্থানকে ট্রাম্প তাঁর প্রতি এবং আমেরিকার প্রতি এক ধরণের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প মনে করেন, লড়াই যখন কঠিন ছিল তখন ব্রিটেন দূরে সরে ছিল, আর এখন পরিস্থিতির রাশ আমেরিকার হাতে চলে আসার পর ব্রিটেন বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে কৃতিত্ব নিতে চাইছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, আমেরিকা ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় নিজের আধিপত্য কায়েম করেছে এবং সেখানে ব্রিটেনের মতো সুবিধাবাদী বন্ধুর কোনো জায়গা নেই। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাব ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ এবং আমেরিকা-ব্রিটেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে যখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই আমেরিকা ফার্স্ট নীতি এবং দীর্ঘদিনের মিত্রদের প্রতি অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছে। আপাতত ব্রিটিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই সরাসরি আক্রমণের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে এই নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
