রাতদিন ওয়েবডেস্ক : রবিবার আহমেদাবাদের স্টেডিয়ামে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। যেখানে একদিকে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারতের সামনে রয়েছে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জিতে হ্যাটট্রিকের সুযোগ, অন্যদিকে কিউয়িদের লক্ষ্য আহমেদাবাদের মাটিতে ভারতকে স্তব্ধ করে দিয়ে শিরোপা ছিনিয়ে নেওয়া। ঠিক ৩৬৬ দিন আগে দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল ভারত, কিন্তু আইসিসি টুর্নামেন্টে কিউয়িরা বরাবরই টিম ইন্ডিয়ার সামনে এক দুর্ভেদ্য গাঁট হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
২০২১-এর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল কিংবা ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার ক্ষত এখনও দগদগে, যা প্রশমিত করতে এই জয় ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আহমেদাবাদের বাইশ গজে এবার লাল মাটির আধিক্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাধারণত ব্যাটারদের জন্য স্বর্গরাজ্য এবং ২০০ রানের আশেপাশে স্কোর হওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে। তবে ভারতীয় শিবিরের মূল দুশ্চিন্তা ওপেনার অভিষেক শর্মার অফ-ফর্ম এবং বরুণ চক্রবর্তীর কার্যকারিতা কমে আসা, যাদের পারফরম্যান্স ফাইনালে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব যদিও ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা রানে নেই, তবে তাঁর ক্ষুরধার নেতৃত্ব এবং ফিল্ডিং সাজানোর মুন্সিয়ানা দলকে ফাইনালে তুলেছে। কিউয়ি অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা স্বাগতিক দর্শকদের চুপ করিয়ে দিয়ে ট্রফি জিততে মরিয়া, যেখানে তাঁদের ট্রাম্প কার্ড হতে পারেন ফিন অ্যালেন ও ম্যাট হেনরি।
অন্যদিকে, ভারতের প্রধান ভরসা আহমেদাবাদের ঘরের ছেলে জসপ্রীত বুমরাহ, যাঁর বোলিং স্পেল ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। পরিষ্কার আকাশের নিচে রাতের দিকে 'শিশির' বা ডিউ ফ্যাক্টর টসজয়ী অধিনায়ককে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে। গ্যালারির লক্ষাধিক সমর্থকের গর্জন আর কিউরেটরদের তৈরি এই বিশেষ ব্যাটিং সহায়ক পিচে সূর্যকুমাররা কি পারবেন বার্বাডোজের সেই ম্যাজিক পুনরাবৃত্তি করে বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখতে, নাকি নিউজিল্যান্ডের চতুর পরিকল্পনা আবারও ভারতীয় সমর্থকদের হৃদয় ভাঙবে সেই উত্তর মিলবে রবিবাসরীয় এই মহাযুদ্ধে। ভারত যদি জিততে পারে, তবে বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের এক অনন্য কীর্তি স্থাপন করবে তারা, যা আধুনিক ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।
