রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল বাংলার স্কুলপড়ুয়াদের পাতে। রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটের জেরে হুগলির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হুগলি গার্লস হাই স্কুলে ব্যাহত হলো মিড-ডে মিল পরিষেবা। পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে শনিবার স্কুলের কয়েকশ ছাত্রীকে দুপুরের খাবারে ভাত-তরকারির বদলে কেবল একটি করে সেদ্ধ ডিম খেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
৯২৩ জন ছাত্রী বিশিষ্ট এই স্কুলে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ জন পড়ুয়ার জন্য মিড-ডে মিল রান্না করা হয়। যাঁদের মধ্যে অধিকাংশেরই পরিবার নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁরা মূলত স্কুলের এই পুষ্টিকর খাবারের ওপরই নির্ভরশীল। কিন্তু গত তিন দিন ধরে স্কুলের এলপিজি সিলিন্ডার শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং নতুন সিলিন্ডার না পাওয়ায় রান্না প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। রাজ্য সমগ্র শিক্ষা মিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী চলতি মাসে অতিরিক্ত ডিম দেওয়ার কথা থাকলেও, তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা মাথায় রাখতে হবে। কিন্তু বিকল্প জ্বালানির অভাব এবং গ্যাসের ডিলারদের কাছ থেকে নতুন সরবরাহ না আসায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকালে চাল ফোটানোর মতো গ্যাস না থাকায় অগত্যা ছাত্রীদের হাতে শুধুমাত্র সেদ্ধ ডিম তুলে দিতে বাধ্য হন শিক্ষিকারা। প্রধানশিক্ষিকা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানান যে, অত্যন্ত উন্নত মানের খাবার দেওয়ার চেষ্টা করা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিরুপায়। বারবার ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও গ্যাস পাওয়া যায়নি, উল্টে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। আগামী সোমবারের মধ্যে গ্যাসের সমস্যার সমাধান না হলে হয়তো এই একটি সেদ্ধ ডিমও দেওয়া সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এই সমস্যা কেবল একটি স্কুলের নয়, জেলার একাধিক স্কুলে একই ছবি ধরা পড়ছে। শিক্ষক-শিক্ষিকারা গ্যাসের অফিসের সামনে লম্বা লাইন দিয়েও সুরাহা পাচ্ছেন না। যুদ্ধের প্রভাবে গ্যাসের জোগান অনিয়মিত হওয়া এবং নতুন করে বুকিংয়ের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এই মিড-ডে মিলের মতো জরুরি পরিষেবাও এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে, যা সরাসরি প্রভাবিত করছে হাজার হাজার দুঃস্থ ছাত্রীর পুষ্টি ও শিক্ষাজীবনে।

