Type Here to Get Search Results !

Brigade Rally : ব্রিগেডের মঞ্চে মোদী-দিলীপ এর রসিকতা, নজর কাড়ল প্রধানমন্ত্রীর অট্টহাসি

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত বিজেপির মেগা সমাবেশে রাজনীতির চড়া সুরের মাঝেও এক টুকরো হালকা মুহূর্তের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। জনসভার গম্ভীর আবহের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তৎকালীন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মধ্যে যে আলাপচারিতা বিনিময় হলো, তা উপস্থিত জনতা এমনকি মঞ্চে থাকা অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতাদেরও বেশ আমোদিত করেছে। 

সাধারণত প্রধানমন্ত্রীকে কঠোর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মেজাজে দেখে অভ্যস্ত সাধারণ মানুষ, কিন্তু রবিবাসরীয় ব্রিগেডে দেখা গেল অন্য চিত্র। সমাবেশের মূল পর্ব শুরু হওয়ার প্রাক্কালে মোদী ও দিলীপ ঘোষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা চলতে থাকে এবং এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকে বেশ উচ্চস্বরে হাসতেও দেখা যায়। জানা গিয়েছে, দিলীপ ঘোষের নিজস্ব ঢঙে কথা বলা এবং তাঁর চিরপরিচিত মর্নিং ওয়াক ও শরীরচর্চা বিষয়ক কোনো প্রসঙ্গের রেশ ধরেই হয়তো এই হাস্যকৌতুক চলেছিল। প্রধানমন্ত্রীর সেই হাসিমুখ এবং দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর এই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও বা ছবি নিমেষেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। তৃণমূল সহ বিরোধী শিবিরের তীব্র আক্রমণের মোকাবিলা করার জন্য যখন বিজেপি কোমর বেঁধে নামছে, তখন দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে রাজ্য নেতার এই বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়ন কর্মীদের মনে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে। মঞ্চে উপস্থিত নেতা-নেত্রীদের চোখেমুখেও তখন হাসির ছটা দেখা যাচ্ছিল, যা বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে রণকৌশল নির্ধারণের ফাঁকেও ব্যক্তিগত সৌজন্য ও মজার কোনো কমতি নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষের লড়াই করার মানসিকতা এবং জনসংযোগের ধরনকে প্রধানমন্ত্রী বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন, আর এদিনের এই দৃশ্য সেই সুসম্পর্কেরই বহিঃপ্রকাশ। 

এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, বড় বড় রাজনৈতিক সমাবেশের মঞ্চ কেবল ভাষণের মাধ্যম নয়, বরং নেতাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সংযোগ এবং দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি প্রদর্শনেরও একটি বড় জায়গা। মোদীর এই হালকা চালের আচরণ রাজ্য বিজেপির নীচুতলার কর্মীদের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনের লড়াইয়ে তাঁদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে। সামগ্রিকভাবে, ব্রিগেডের জনসভা থেকে যেখানে বড় বড় রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে মোদী ও দিলীপ ঘোষের এই অনাবিল হাসি যেন এক অন্য মাত্রা যোগ করল, যা সাধারণ মানুষের কাছেও চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝে এইটুকু বিনোদন যেন এক ঝলক টাটকা বাতাসের মতো কাজ করেছে, যা মঞ্চে থাকা মিঠুন চক্রবর্তী থেকে শুরু করে শুভেন্দু অধিকারীদেরও হাসি থামাতে দেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর এই হাস্যেজ্জ্বল ছবি আদতে বাংলার মানুষের কাছে তাঁর একটি সহজ-সরল ও মিশুকে ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রয়াস হিসেবেও দেখা যেতে পারে, যা রাজনৈতিক গুরুত্বের বিচারে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad