রাতদিন ওয়েবডেস্ক : শুক্রবার দুপুর দেড়টা নাগাদ এক আকস্মিক ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে তিলোত্তমা কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। কম্পনের উৎসস্থল প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সাতক্ষীরা হলেও তার প্রভাব অনুভূত হয় এপার বাংলাতেও। তীব্র আতঙ্কে যখন মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন, ঠিক তখনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী হয় বেহালার পর্ণশ্রী এলাকা। সেখানকার ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত সাগর মান্না রোডে ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রায় ২০ ফুট দীর্ঘ একটি বিশালাকার ফাটল দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যে রাস্তাটিতে ফাটল ধরেছে সেটি দীর্ঘকাল কাঁচা অবস্থায় থাকার পর মাত্র এক দিন আগেই সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতেই অত্যন্ত যত্ন সহকারে পিচ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়, কিন্তু পরদিন দুপুরের কম্পনেই সেই মসৃণ পিচের বুক চিরে আড়াআড়ি ফাটল তৈরি হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী দীনবন্ধু গায়েন জানান, কম্পন অনুভব করার পর নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে যখন তারা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন, তখন দেখেন সদ্য তৈরি হওয়া রাস্তাটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্চিতা মিত্র দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি দলীয় কার্যালয় থেকে এলাকায় চলে আসেন এবং ফাটল মেরামতির কাজ তড়িঘড়ি শুরু করার নির্দেশ দেন। যদিও ভূমিকম্পের কারণে পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি, তবুও কলকাতার বুকে রাস্তার এই ফাটল ভূতাত্ত্বিক বিপদের এক নতুন সংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে মহাদেশীয় ভাঙনরেখার ওপর কলকাতার অবস্থান এবং মাটির গঠন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ এই ঘটনার ফলে আরও বেড়ে গেল। কাউন্সিলরের তৎপরতায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তার মেরামতি শেষ করা হলেও, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের কম্পনে নতুন রাস্তার এমন দশা স্থানীয় মানুষের মনে ভয়ের আবহ তৈরি করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকার জনমানসে ভূমিকম্পের সেই আতঙ্ক এবং রাস্তার ফাটল নিয়ে চর্চা অব্যাহত রয়েছে।

