রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কসবা এলাকায় গুলিকাণ্ড এবং তার পরবর্তী তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে বর্তমান আইনি প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় লক্ষ করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, কসবা কাণ্ডে ধৃত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন আলিপুর আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন, যা এই মামলার তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত নভেম্বর মাসে কসবার এক কাউন্সিলরের ওপর হামলার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছিল শহর কলকাতায়। সেই সময় পুলিশি অভিযানে মূল অভিযুক্তদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে নুর আলম, সাজিদ এবং মহম্মদ কাইফ অন্যতম। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, এই ব্যক্তিরা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অপরাধের ষড়যন্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত।
তবে আদালতের শুনানিতে ধৃতদের আইনজীবীরা দাবি করেন যে, নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ বা অপরাধের জোরালো ভিত্তি ছাড়াই তাঁদের মক্কেলদের দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক তাঁদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন, যদিও জামিনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এই মামলার তদন্তে শুরু থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছিল, যেখানে বিহার থেকে অস্ত্র আনা এবং স্থানীয় রেষারেষির বিষয়গুলি প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে সঠিক সময়ে চার্জশিট বা তথ্যপ্রমাণ পেশ করার ক্ষেত্রে কোনো ফাঁক ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, কাউন্সিলরের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সহ আরও কয়েকজন এখনও জেল হেফাজতেই রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের জন্য এই জামিন পাওয়ার বিষয়টি কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ কসবা ও সংলগ্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে বিরোধীরা আগে থেকেই সরব ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, জামিন পেলেও এই ব্যক্তিদের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখা হবে যাতে মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ কোনোভাবে প্রভাবিত না হয়। সামগ্রিকভাবে, কসবা কাণ্ডের এই নতুন মোড় তদন্তের ভবিষ্যৎ এবং এই ঘটনার পেছনের আসল মাথাদের শাস্তি পাওয়ার প্রক্রিয়াকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

