রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ কমিশনের কড়া বার্তায় চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর নবান্নের রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর)-এ অনিয়মের অভিযোগে অবশেষে নতিস্বীকার করল রাজ্য প্রশাসন। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মঙ্গলবার চারজন ডব্লিউবিসিএস পদমর্যাদার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের দুই জন ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার ও দুই জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার।
অভিযুক্ত আধিকারিকরা হলেন বিপ্লব সরকার, সুদীপ্ত দাস, দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী এবং তথাগত মণ্ডল। ভোটার তালিকায় জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে এই ঘটনায় টালবাহানা করায় নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে তলব করে কড়া বার্তা দিয়েছিল এবং মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে পদক্ষেপ করার চরম সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে পৌঁছেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদক্ষেপকে আইনের পথে চলা বলে বর্ণনা করলেও কমিশনকে তুঘলকি বলে কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, কমিশনকে সম্মান জানিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে। বিজেপি এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করায় সরকার বাধ্য হয়েছে এই পদক্ষেপ নিতে। ডিজিটাল নথির যুগে কারচুপি করে পার পাওয়া সম্ভব নয় বলেই গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। মূলত ভোটার তালিকা তৈরিতে স্বচ্ছতা বজায় না রাখা এবং কমিশনের নির্দেশ অমান্য করার কারণেই এই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

