রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা এবং ভোটের দফা নির্ধারণের দফার বিন্যাস নিয়ে জল্পনা। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে নির্বাচনের ‘দফা’ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক গতিবিধি ও প্রশাসনিক স্তরের আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর লক্ষে কমিশনের প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী। সূত্রের খবর, কত দফায় রাজ্যে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, তা সরাসরি নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর লভ্যতার ওপর।
পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কমিশন এবার নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না। সাধারণত, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বুথ পাহারায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, আর সেই কারণেই পর্যাপ্ত বাহিনী না পাওয়া গেলে ভোটের দফা বাড়িয়ে রাজ্যজুড়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করাই কমিশনের দস্তুর। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের অন্যান্য প্রান্তের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কত পরিমাণ কোম্পানি জওয়ান বাংলায় পাঠাতে পারবে, তার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত নির্ঘণ্ট সাজানো হবে। যদি পর্যাপ্ত বাহিনী পাওয়া যায়, তবে কম দফায় ভোট করার সম্ভাবনা থাকে, অন্যথায় নিরাপত্তার খাতিরে আট বা তার বেশি দফায় নির্বাচনের পথে হাঁটতে পারে কমিশন। প্রতিটি বুথে সিসিটিভি নজরদারি এবং আধাসামরিক বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গেলে যে বিশাল সংখক কর্মীবলের প্রয়োজন, তা একলপ্তে জোগাড় করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলিও নিজেদের মতো করে রণকৌশল সাজাচ্ছে, কারণ দীর্ঘায়িত নির্বাচন প্রক্রিয়ার যেমন সুবিধা রয়েছে, তেমনই রয়েছে প্রচারের ক্লান্তিকর রুটিন। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের নিরাপত্তা এবং বুথ দখলের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে কমিশনের কড়া নজরদারি ও বাহিনীর বিন্যাসই ঠিক করে দেবে বাংলার ভবিষ্যৎ বিধানসভা নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র। রাজ্য প্রশাসনও ইতিমধ্যেই জেলাভিত্তিক স্পর্শকাতর বুথের তালিকা প্রস্তুত করতে শুরু করেছে, যা বাহিনীর চাহিদা বুঝতে কমিশনকে সাহায্য করবে।

