রাতদিন ওয়েবডেস্ক : মাওবাদী সংগঠনের এক শীর্ষ নেতার আত্মসমর্পণের পর বিহারকে সম্পূর্ণ ‘মাওবাদীমুক্ত’ বলে দাবি করল রাজ্য পুলিশ। বুধবার মুঙ্গেরে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেন সুরেশ কোড়া ওরফে মুস্তাকিম। তাঁর মাথার দাম ছিল তিন লক্ষ টাকা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোড়ার বিরুদ্ধে মোট ৬০টি মামলা ঝুলছিল। এর মধ্যে অধিকাংশই বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর আওতায় দায়ের করা। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নিরাপত্তাবাহিনীর নজরে ছিলেন।
আত্মসমর্পণের সময় তাঁর কাছ থেকে তিনটি অ্যাসল্ট রাইফেল, বিপুল পরিমাণ কার্তুজ, ম্যাগাজিন এবং নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।রাজ্য পুলিশের বক্তব্য, বিহারে মাওবাদী কার্যকলাপ রুখতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর তৎপরতা এবং সরকারের পুনর্বাসন নীতির ফলেই কোড়ার মতো শীর্ষ নেতা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছেন। মাওবাদী প্রভাবিত রাজ্যগুলিতে আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের জন্য বিভিন্ন পুনর্বাসন প্রকল্প চালু রয়েছে। বিহারেও ‘আত্মসমর্পণ সহ পুনর্বাস যোজনা’ কার্যকর রয়েছে।এই প্রকল্প অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের আর্থিক সহায়তা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হয়। কোড়াকে তাঁর মাথার দামের সমপরিমাণ তিন লক্ষ টাকা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা এবং তিন বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য।রাজ্য পুলিশের দাবি, কোড়ার আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বিহারে মাওবাদী সংগঠনের সক্রিয় উপস্থিতি কার্যত শেষ হয়েছে। ফলে বিহার এখন সম্পূর্ণভাবে মাওবাদীমুক্ত।উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদীমুক্ত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন মাওবাদী উপদ্রুত রাজ্যে একাধিক শীর্ষ নেতা আত্মসমর্পণ করেছেন বা নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে বিহারের এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কোনও রাজ্যকে সম্পূর্ণ মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করার আগে দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ জরুরি। প্রশাসনের দাবি কতটা স্থায়ী ফল দেবে, তা সময়ই বলবে।
