রাতদিন ওয়েবডেস্ক : সাতসকালে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার বালিগঞ্জ স্টেশনে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। চলন্ত ট্রেনের ওপর থেকে হাইভোল্টেজ ওভারহেড তারে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। চোখের নিমেষে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঝলসে যায় ওই যুবকের শরীর। এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে দীর্ঘক্ষণ শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হন নিত্যযাত্রীরা। ঠিক কী ঘটেছিল? প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে যখন স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় ছিল, ঠিক সেই সময় শিয়ালদহগামী একটি লোকাল ট্রেন বালিগঞ্জ স্টেশনের চার নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢোকার মুখে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
হঠাৎই এক যুবককে ট্রেনের ছাদে দেখা যায়। ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে থামা মাত্রই ওই যুবক সটান ওভারহেড তার লক্ষ্য করে ঝাঁপ দেন। ২৫ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎবাহী তার স্পর্শ করার সাথে সাথেই বিকট শব্দ হয় এবং আগুনের ফুলকি দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে যুবকের শরীর ঝলসে গিয়ে ট্রেনের ছাদের ওপর ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। ঘটনার আকস্মিকতায় স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন ভয়ে এদিক ওদিক ছুটতে শুরু করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রেল পুলিশ এবং আরপিএফ। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেলের কর্মীরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় যুবকের দগ্ধ দেহটি ট্রেনের ছাদ থেকে নামিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তবে ওই যুবকের নাম বা পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তিনি কেন এমন পথ বেছে নিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনার জেরে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। অফিস টাইমে এমন ঘটনায় শিয়ালদহ, সোনারপুর, ক্যানিং ও ডায়মন্ড হারবার লাইনের যাত্রীরা ব্যাপক সমস্যায় পড়েন। বিভিন্ন স্টেশনে একের পর এক ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য দ্রুত কাজ করা হচ্ছে এবং দেহটি উদ্ধার করার পর পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। রেল পুলিশের এক আধিকারিক জানান প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে ওই যুবক স্টেশনে এসেছিলেন নাকি ট্রেন থেকেই ছাদে উঠেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

