রাতদিন ওয়েবডেস্ক : জাতীয় নির্বাচন কমিশন আরও একবার জেলাশাসক ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যদি কোনও ভুল বা ইচ্ছাকৃত অনিয়ম হয়, তাহলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। কমিশনের এই হুঁশিয়ারির পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে যে কমিশন জমিদারি শাসন চালাচ্ছে এবং দ্রুত কাজ করা কর্মকর্তাদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি করছে।সূত্রের খবর অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার শুক্রবার জেলাশাসকদের বৈঠকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ৫ বছর এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত নথি সংরক্ষিত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এক বছর বা দুই বছর নয়, বহু বছরের জন্য এই নথি কমিশনের তথ্যভাণ্ডারে থাকবে।
ভবিষ্যতে যদি কোনও ভোটার তালিকায় অনিয়ম বা বিদেশি ভোটার ধরা পড়ে, সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কমিশন আরও জানিয়েছে, বৈঠকে বিভিন্ন নথি যেমন সংবাদপত্র কাটিং, ফাঁকা পাতা, অস্পষ্ট ছবি ইত্যাদি আপলোড করা হয়েছে বলে কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে। এই নথিগুলি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সমস্ত ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। কমিশন জিজ্ঞেস করেছে, এই নথিগুলি কে, কীভাবে আপলোড করেছে এবং ডিএমরা কীভাবে যাচাই করেছেন।ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত করবেন যে শুধুমাত্র ইসিআই এবং সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদিত নথি বিবেচনা করা হয়েছে। সকল ডিইওকে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে এই যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়াও আইটি টিমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সময়সীমার পরে সিস্টেমে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত নথি অবশিষ্ট আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে। কোনও নথি থাকলে তার দায় ডিএম নিজে বহন করবেন।সকল পর্যবেক্ষকদের বলা হয়েছে, ইআরও, এইআরও এবং ডিইওদের বেআইনি বা অনিয়মমূলক কাজ কমিশনের নজরে আনতে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অগ্রহণযোগ্য ও অস্পষ্ট নথি ডিইওদের যাচাইয়ে ধরা পড়লেই অবিলম্বে জানাতে।বৈঠকে বিশেষভাবে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদহ, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ডিএমদের গাফিলতির জন্য তিরস্কার করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের ডিএমকে রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারের ডিএমকে নথি আপলোডে বিলম্বের জন্য ধমক দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিএমও কমিশনের রোষের মুখে পড়েছেন।এতে স্পষ্ট যে, জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবার কোনও অনিয়মকে প্রশ্রয় দেবে না এবং কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর দায়বদ্ধতার বার্তা পাঠিয়েছে।

