রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক শোকাবহ দিন। জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় সিআরপিএফ কনভয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় শহিদ হন ৪০ জন জওয়ান। পাঁচ বছর পেরিয়েও সেই ক্ষত আজও তাজা। গোটা দেশ জুড়ে আজ তাঁদের স্মরণে পালিত হচ্ছে শ্রদ্ধা দিবস।২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে লেথপোরা এলাকায় সিআরপিএফ-এর কনভয়ের ওপর বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ। ঘটনাস্থলেই বহু জওয়ান প্রাণ হারান, পরে হাসপাতালে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্তভার নেয় জাতীয় ইনভেস্টিগেশন এজেন্সী(এনআইএ)।
এই হামলার পর ভারত-পাক সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং প্রায় দু’সপ্তাহ পরে ভারতীয় বায়ুসেনা বালাকোটে জঙ্গি শিবিরে এয়ারস্ট্রাইক চালায়।শহিদ ৪০ জওয়ানের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের দুই বীর সন্তানও ছিলেন। নদিয়ার তেহট্ট ও পূর্ব বর্ধমানের গ্রামে আজও তাঁদের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত। প্রতি বছর পরিবার, স্থানীয় মানুষ ও প্রশাসনের উদ্যোগে মাল্যদান, প্রার্থনা ও স্মরণসভা হয়। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পাঞ্জাব, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, অসম-সহ একাধিক রাজ্যের জওয়ানরা ওই হামলায় প্রাণ হারান। উত্তর প্রদেশ থেকেই সর্বাধিক সংখ্যক জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। দিল্লির জাতীয় যুদ্ধ স্মারক -এ সকালে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানেরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সিআরপিএফের পক্ষ থেকে বিশেষ স্মরণসভায় শহিদ পরিবারগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের লেথপোরা এলাকাতেও জওয়ানরা মোমবাতি জ্বালিয়ে ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ লাইন ও ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে আয়োজিত হয়েছে প্রার্থনা সভা। স্কুল-কলেজে ছাত্রছাত্রীরা শহিদদের ছবি সামনে রেখে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে। বহু জায়গায় রক্তদান শিবির, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও #PulwamaBravehearts হ্যাশট্যাগে চলছে শ্রদ্ধা নিবেদন।পাঁচ বছর পরেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে আজকের দিনটি শুধুই বীর শহিদদের উদ্দেশে। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পরিবারগুলির পাশে থাকার অঙ্গীকার ও জাতীয় ঐক্যের বার্তাই হোক এই দিনের প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।

