রাতদিন ওয়েবডেস্ক : চিনিকে বহু দিন ধরেই ‘সাদা বিষ’ বা ‘মেটাবলিক পয়জন’ বলে চিহ্নিত করা হয়। অতিরিক্ত চিনি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে, ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে এবং বিপাকক্রিয়ায় ছন্দপতন ঘটে এ কথা চিকিৎসকেরা বারবার সতর্ক করেছেন। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে হৃদ্যন্ত্র, কিডনি, লিভার ও মস্তিষ্কে। এমনকি ক্যানসার ও একাধিক জটিল রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চিনি নয় নিত্যদিনের কিছু সাধারণ খাবারেও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) এত বেশি যে সেগুলি রক্তে শর্করা আরও দ্রুত বাড়াতে পারে।গ্লাইসেমিক ইনডেক্স হল এমন একটি সূচক, যা জানায় কোনও খাবার কত দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়।
সাধারণ চিনি বা সুক্রোজের GI ধরা হয় প্রায় ৬৫। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, প্রতিদিনের বেশ কিছু পরিচিত খাবারের GI এর থেকেও বেশি।প্রথমেই রয়েছে সাদা ভাত। পালিশ করা চাল থেকে তৈরি সেদ্ধ ভাতের GI প্রায় ৭০-৭৩। চাল প্রক্রিয়াকরণের সময় ফাইবারের বড় অংশ বাদ পড়ে যায়, ফলে তা দ্রুত হজম হয়ে রক্তে শর্করা বাড়ায়। মুড়ির ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও বেশি এর GI ৮০-র উপরে। ফলে মুড়ি খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা খুব দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।সকালের টোস্টও নিরাপদ নয়। ময়দার তৈরি সাদা পাউরুটির GI ৭৫ থেকে ৯৫-এর মধ্যে। অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট হওয়ায় এটি শরীরে দ্রুত ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়। একইভাবে কর্নফ্লেক্স, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত ও কম ফাইবারযুক্ত ধরনের, GI ৮০-৯০। এমনকি ‘নো অ্যাডেড সুগার’ লেখা থাকলেও তা সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।আলুও তালিকায় রয়েছে। বিশেষত সেদ্ধ করে মেখে নেওয়া আলু বা ম্যাশড পটেটোর GI ৮০-৮৫। আলুর স্টার্চ নরম হয়ে যাওয়ায় তা দ্রুত গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। ইনস্ট্যান্ট ওটসের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াকরণে ফাইবার কমে যায় এবং অনেক সময় ফ্লেভার বা চিনি মেশানো থাকে। এর GI ৬৬-৮০।পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে শুধু চিনি কমালেই হবে না, বরং উচ্চ GI-যুক্ত খাবারের পরিমাণও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সম্পূর্ণ শস্য, বেশি ফাইবারযুক্ত খাবার এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।

