রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বাবা এইচআইভি আক্রান্ত, ভর্তি হাসপাতালে। আর সেই ‘অপরাধে’ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেল বছর চারেকের এক খুদের। অভিযোগ, শিক্ষিকার নির্দেশেই আপাতত শিশুটিকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মহকুমা শাসকের দপ্তরের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার। ই-মেলের মাধ্যমে গোটা ঘটনা জানানো হয়েছে প্রশাসনকে।ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার ২ নম্বর ব্লকের মথুরাপুর এলাকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে ওই শিশুর বাবা এইচআইভি আক্রান্ত বলে ধরা পড়ে। তার পর থেকেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সম্প্রতি পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এলাকার মধ্যে খবর ছড়াতে সময় লাগেনি। সেই খবর পৌঁছে যায় সংশ্লিষ্ট অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিক্ষিকার কাছেও।
পরিবারের দাবি, এরপরই আচমকা সমস্যার সূত্রপাত। অন্যান্য দিনের মতো বইখাতা, জল ও খাবার নিয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পৌঁছয় শিশুটি। কিন্তু তাকে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। শিশুর মায়ের অভিযোগ, শিক্ষিকা জানান “ওর বাবার খারাপ রোগ হয়েছে। তাই ছেলেকে স্কুলে রাখা যাবে না।” আচমকা এমন কথায় হতভম্ব হয়ে পড়েন তিনি। ছোট্ট শিশুটিও কিছু না বুঝে কান্নায় ভেঙে পড়ে।শিশুর পিসির কথায়, কেন্দ্র থেকে যদিও রোজ খাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু পড়াশোনা বা অন্যান্য কার্যক্রমে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। অপমানিত ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত পরিবার এরপর প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বসিরহাটের মহকুমা শাসকের কাছে ই-মেল করে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। পরিবার চাইছে, শিশুটি যেন স্বাভাবিকভাবে আবার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে যেতে পারে।অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বক্তব্য ভিন্ন। তাঁর দাবি, “আমি কোনও অন্যায় করিনি। বাচ্চাটিকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে।” তবে পরিবারের প্রশ্ন, যদি বহিষ্কার না-ই করা হয়ে থাকে, তা হলে শিশুকে কেন কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হল না?এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
অনেকেই মনে করছেন, এখনও এইচআইভি নিয়ে সমাজের একটি বড় অংশের মধ্যে ভুল ধারণা রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচআইভি সংক্রমণ ছড়ায় নির্দিষ্ট কিছু মাধ্যমে যেমন সংক্রমিত রক্তের আদানপ্রদান, অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক বা মা থেকে সন্তানের শরীরে। দৈনন্দিন মেলামেশা, একসঙ্গে বসা, পড়াশোনা করা বা খাবার ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায় না। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের আলাদা করে দেওয়ার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, সচেতনতার অভাব থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। বর্তমানে সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধের মাধ্যমে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। তাই অযথা ভয় বা কুসংস্কার নয়, প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক সচেতনতা।এখন দেখার, প্রশাসন এই অভিযোগের কী পদক্ষেপ নেয়। তবে চার বছরের এক শিশুর শিক্ষাজীবনের শুরুতেই এমন বাধা সমাজের মানসিকতার দিকেই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজা সকলের জন্য সমানভাবে খোলা থাকা উচিত এমনটাই মনে করছে এলাকার একাংশ।
