রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পিকনিক গার্ডেনের বাসিন্দা, ৬৩ বছর বয়সি প্রাক্তন শিক্ষক বিপুল সাহার ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ এর মাধ্যমে ৫৩ লক্ষ টাকা প্রতারিত হওয়ার ঘটনাটি আধুনিক সাইবার অপরাধের এক ভয়াবহ নিদর্শন। গত ২ ডিসেম্বর একটি সাধারণ ফোনের মাধ্যমে এই প্রতারণার জাল বোনা শুরু হয়, যেখানে নিজেকে কেন্দ্রীয় টেলিফোন সংস্থার কর্তা পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি জানায় যে, বিপুলবাবুর নথিপত্র ব্যবহার করে ৫ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। এর পরপরই শুরু হয় মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং নাটুকে আবহে সাজানো এক ভার্চুয়াল আদালত।
সিবিআই অফিসারের পোশাকে বিজয় খন্না নামে এক ব্যক্তি তাঁকে ভিডিও কলে ভয় দেখায় এবং পরদিন দিল্লির ইডি আদালতে তোলার কথা বলে। ভয়ংকর বিষয় হলো, প্রতারকরা এতটাই নিখুঁতভাবে সব সাজিয়েছিল যে বিপুলবাবুকে ভিডিও কলেই বিচারক রাহুল গুপ্তের সামনে ‘হাজির’ করা হয়, যার নেপথ্যে ছিল মহাত্মা গান্ধীর ছবি এবং এজলাসের হুবহু পরিবেশ। এমনকি তাঁকে গীতায় হাত রেখে শপথবাক্যও পাঠ করানো হয়। মেয়ে ও নিজের সামাজিক সম্মান রক্ষার্থে এবং গ্রেফতারির ভয়ে ভীত বিপুলবাবু কাউকে কিছু জানাননি। নিশা পটেল নামধারী এক ভুয়ো ইডি অফিসারের আশ্বাসে জামিন ও নির্দোষ প্রমাণের জন্য তিনি ধাপে ধাপে নিজের জীবনের সঞ্চয় এবং স্ত্রীর শেয়ারের টাকা মিলিয়ে মোট ৫৩ লক্ষ টাকা প্রতারকদের দেওয়া ‘রিজার্ভ ব্যাঙ্ক’ এর নামাঙ্কিত অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। টানা ২৫ দিন গৃহবন্দি থাকার পর যখন প্রতারকরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, তখন তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি এক সুপরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন। বর্তমানে কসবা থানা ও লালবাজারের সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ জানালেও দেড় মাস পেরিয়ে যাওয়ায় টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এই বৃদ্ধ। অবসরের পর মেয়ের বিয়ের জন্য এবং নিজের চিকিৎসার জন্য জমানো সর্বস্ব হারিয়ে বিপুলবাবু এখন দিশেহারা। এই ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, কীভাবে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এবং আইনি ভয় দেখিয়ে শিক্ষিত মানুষকেও সর্বস্বান্ত করা সম্ভব। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে গেলেও আন্তঃরাজ্য এই চক্রের নাগাল পাওয়া এবং টাকা উদ্ধার করা এখন প্রশাসনের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ।

