রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভারতীয় রেলের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠাবান সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ অবসরকালীন যে 'রুপোর পদক' কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, তা আদতে তামার। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে পশ্চিম মধ্য রেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের দেওয়া স্মারক মুদ্রায় এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। রেলের নিয়ম অনুযায়ী অবসরগ্রহণের সময় কর্মীদের সম্মান জানাতে রুপোর মুদ্রা বা পদক দেওয়া হয়। সম্প্রতি রুপোর দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় ভোপাল ডিভিশনের বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মী তাঁদের সেই পদক বাজারে বিক্রি করতে যান। সেখানেই ধরা পড়ে আসল সত্যি। জহুরিরা পরীক্ষা করে জানান ওই পদকে রুপোর ছিটেফোঁটা থাকলেও তার সিংহভাগই তামা দিয়ে তৈরি।তদন্তে নেমে রেলের ভিজিল্যান্স আধিকারিকরা জানতে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে পদকগুলিতে মাত্র ০.২৩ শতাংশ রুপো রয়েছে। বাকি প্রায় পুরোটাই তামা। নিয়ম অনুযায়ী এতে ৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধ রুপো থাকার কথা ছিল।
ইন্দোরের একটি সংস্থাকে ৩,৬৪০টি মুদ্রা তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটির দাম ধরা হয়েছিল ২,৫০০ টাকা। রেলের প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে এই জাল পদক সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযো। সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী সংস্থাকে ইতিমধ্যেই কালো তালিকাভুক্ত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। কর্মীদের ক্ষোভ ডি কে গৌতম নামে এক অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী জানান, "আমরা অত্যন্ত অপমানিত বোধ করছি। সারাজীবনের কাজের বিনিময়ে বিভাগ থেকে পাওয়া সম্মান যে এভাবে নকল হবে, তা ভাবিনি। এটা শুধু আর্থিক জালিয়াতি নয়, আমাদের আবেগের সঙ্গেও খেলা করা হয়েছে।"রেল সূত্রের খবর, এই দুর্নীতির জাল কতটা গভীরে এবং রেলের কোনো আধিকারিক এর সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খুঁটিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।

