রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ঘটনাটি কলকাতার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের আহিরিটোলা স্ট্রিটের। বাড়ি খালি করার নোটিশ পাওয়ার পরেও বাড়ি ছাড়ছেন না বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার বিকেলে পুনরায় পুলিশের নোটিশ আসার পরেও বাড়ি খালি করেননি তারা। উপরন্তু পুলিশ বাড়ির সামনে থেকে চলে যাওয়ার পর ওই বাড়ির একজন সদস্য বলে ওঠেন, " শুধু শুধু ভয় দেখানো। এই বাড়িতে আমপান কাটিয়ে দিলাম কিছু হলো না। ওড়িশার দিকে যাওয়া ঝরে নাকি কলকাতার বাড়ি ভেঙে পড়বে! কোথাও যাবো না। এখানেই থাকবো।" এ বারের অন্য এক ভাড়াটিয়া জানান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে বাড়ি খালি করবেন তারা।
এ বিষয়ে ওই বাড়ির আরেকজন ভাড়াটিয়া শুক্লা মুখোপাধ্যায় বলেছেন, " কেউ যায় কেউ যায় না। ইচ্ছে মত এখানে কেউ জোর করে না। " বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই হালকা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো রকম উত্তেজনা নেই বাসিন্দাদের। তাই পুরসভার নোটিশ পাওয়ার পরেও ঘর ছাড়তে রাজি নন বাসিন্দারা। সেক্ষেত্রে ঝড়ের বিপদ নিয়ে প্রশ্ন করলে তাদের উত্তর আসে "দেখা যাবে " কেউ আবার প্রত্যুত্তরে বলেন," কয়েক মাস আগেও তো একইভাবে বাড়ি ছাড়ার কথা বলেছিল। কিছু হয়েছিল কি?" এক্ষেত্রে অন্য আরেকটি বিপদজনক বাড়ির প্রতিবেশী জানান, " বাড়ির কেউ সংস্কারও করে না। খালি ও করেনা। এমন বাড়ির প্রতিবেশী হয়ে আমাদেরও প্রাণ হাতে করে থাকতে হয় কখন ভেঙে পড়বে জানা নেই।" এ বিষয়ে লক্ষ্য করলে দেখা যায় কলকাতার মোট চার হাজারেরও বেশি রয়েছে বিপদজনক বাড়ি।
সেখান থেকে মাত্র ১৫০টি অতি বিপদজনক বাড়ি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানেই পুরসভা থেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা যাতে বাড়ি খালি করে দেন। এবং কয়েক ঘণ্টার জন্য তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে কমিউনিটি হল এবং ক্লাবে। কিন্তু এর মধ্যে অধিকাং বাসিন্দারাই বাড়ি খালি করার কথা ভাবছেন না। এমনকি কেউ কেউ পুলিশের ধমকে বিকেলে বাড়ি ছেড়ে গেলেও রাতের মধ্যে পুনরায় বাড়িতে ফিরে আসেন। এ বিষয়ে পুরসভার এক আধিকারিক এর মতামত, " এটা পুরোনো রোগ তাই নোটিশ দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করেও কয়েক ঘন্টার জন্য বাড়ি থেকে সরানো যায় না। সেক্ষেত্রে তো আর লাঠি হাতে নামতে পারি না।"

