রাতদিন ওয়েবডেস্ক : উত্তর সিকিমের লাচেন ও গুরুদংমার লেক যাওয়ার রাস্তা টানা বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ ধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারাম চু নদীর উপর বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই ধস নামায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে। ফলে বহু পর্যটক আটকে পড়েন দুর্গম এই অঞ্চলে।মঙ্গলবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে যান প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। উপস্থিত ছিলেন অনন্ত জৈন, এলবি ছেত্রী, অরুণ ছেত্রী এবং চন্দন ছেত্রী।
তাঁরা ধস কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করেন এবং দ্রুত রাস্তা মেরামতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে Border Roads Organisation (বিআরও)। প্রশাসনের আধিকারিকরা বিআরও-র কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কতটা সময় লাগতে পারে এবং কী কী চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে, তা নিয়ে বিশদে আলোচনা করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৮৬ আরসিসি ইউনিটের কমান্ডার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা, যারা পুনর্গঠনের কাজের দায়িত্ব নেবেন।ধসের ফলে চুংথাং-লাচেন সড়ক সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গোটা অঞ্চল। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশের বিস্তারিতপর্যালোচনা করা হয়েছে এবং দ্রুত পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল জানিয়েছেন, টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলেই তারাম চু নদীর উপর বেইলি ব্রিজের কাছে এই ভয়াবহ ধস নামে। সেই সময় লাচেনে বহু পর্যটক আটকে পড়েন। সিকিম প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাঁদের আপাতত লাচেন না ছাড়ার নির্দেশ দেয়।যদিও বিকল্প পথে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু প্রবল বৃষ্টি ও তুষারপাত সেই প্রচেষ্টায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এর আগেও মার্চের শেষ সপ্তাহে একই পথে একাধিক ধসের ঘটনা ঘটেছিল, যার ফলে প্রায় ২০০ পর্যটক আটকে পড়েছিলেন।বর্তমান পরিস্থিতিতে এখনও বহু পর্যটক উত্তর সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় আটকে রয়েছেন। তবে প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে, দ্রুত রাস্তা মেরামত করে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে এবং পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

