রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার সাথে সাথেই প্রথম দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। আগামী ২৭শে মার্চ রাজ্যের ৩০টি আসনে প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এবং এই দফার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন অতিক্রান্ত হতেই নির্বাচনী লড়াইয়ের এক পরিষ্কার চিত্র জনসমক্ষে উঠে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম দফার এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য সর্বমোট ১৯১ জন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়ন পত্র পেশ করেছেন।
রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলি অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস, ভারতীয় জনতা পার্টি এবং বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোটের পক্ষ থেকে যেমন প্রতিটি আসনেই প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, তেমনই নির্দল ও অন্যান্য ছোট রাজনৈতিক দলগুলির উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। প্রথম দফায় মূলত জঙ্গলমহলের জেলাগুলি যেমন বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুরের একাংশে ভোটগ্রহণ হবে, যা রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই পর্যায়টি বিশেষ করে শাসক দল তৃণমূল ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপির কাছে অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে, কারণ বিগত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে এই অঞ্চলগুলিতে পদ্মশিবিরের ব্যাপক উত্থান লক্ষ্য করা গিয়েছিল। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস তাদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া এবং খেলা হবে স্লোগানকে সামনে রেখে জন সংযোগের ওপর জোর দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে যে, প্রথম দফার এই মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় জেলাভিত্তিক হিসেবে সবথেকে বেশি সংখ্যক প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন পুরুলিয়া জেলায়, যেখানে ৯টি আসনের জন্য ৮২ জন প্রার্থী তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে ময়দানে নেমেছেন।
এর পরেই রয়েছে ঝাড়গ্রামের ৪টি আসন এবং বাঁকুড়া ও মেদিনীপুরের সংশ্লিষ্ট আসনগুলি। মনোনয়নপত্র পরীক্ষার কাজ ইতিপূর্বেই সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী দিনে যারা লড়াই থেকে পিছিয়ে যেতে চান তাঁদের নাম প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমাও ধার্য করা হয়েছে। এরপরই লড়াইয়ের চূড়ান্ত তালিকা আরও স্পষ্ট হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফার নির্বাচনে প্রার্থীদের এই ভিড় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এক উজ্জ্বল দিক তুলে ধরলেও, প্রকৃত লড়াই হবে মূলত ত্রিমুখী। একদিকে যেমন তৃণমূলের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির প্রচার চলছে, অন্যদিকে বিজেপি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে পরিবর্তন চাইছে। আবার সংযুক্ত মোর্চাও কর্মসংস্থান ও গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। সামগ্রিকভাবে, প্রথম দফার এই ১৯১ জন প্রার্থীর নির্বাচনী ভাগ্য নির্ধারণ করবেন জঙ্গলমহলের কয়েক লক্ষ মানুষ, যার ফলাফল আগামী ২রা মে রাজ্যের ক্ষমতার অলিন্দে কার আধিপত্য থাকবে তার এক প্রাথমিক ইঙ্গিত দিয়ে দেবে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এখন চূড়ান্ত উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং প্রশাসনও অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলেছে সম্পূর্ণ এলাকাকে। প্রথম দফার এই লড়াই কেবল প্রার্থীদের নয়, বরং রাজ্যের শীর্ষ নেতাদের কাছেও এক সম্মানের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।

