Type Here to Get Search Results !

Asaduddin Owaisi's AIMIM : একলা চলো নীতি মিমের, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গ ছেড়ে বাংলায় একক লড়াইয়ের ডাক ওয়েইসির

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে জোট জল্পনা কাটিয়ে শেষমেশ এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল আসাদউদ্দিন ওয়েইসির নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন বা মিম। গত কয়েক মাস ধরে মুর্শিদাবাদের প্রভাবশালী নেতা হুমায়ুন কবীরের দল বা অন্যান্য ছোট সংগঠনের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে লড়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তাতে কার্যত জল ঢেলে ওয়েইসির দল সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কারোর সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে না বরং বাংলার নির্বাচনী ময়দানে নির্ভেজাল 'সোলো' বা একক শক্তিতেই অবতীর্ণ হবে। 

এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে বিশেষ করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং সংযুক্ত মোর্চার অন্দরে নতুন করে উদ্বেগের মেঘ জমতে শুরু করেছে কারণ রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ওয়েইসির দল সরাসরি লড়াইয়ে নামলে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলোতে ভোট কাটাকাটির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। মিম নেতৃত্বের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে এ রাজ্যে নিজেদের সংগঠন মজবুত করার কাজ চালিয়েছে এবং বিশেষ করে মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর ও বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে তাদের জনভিত্তি আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ় হয়েছে, তাই কোনো আঞ্চলিক দল বা বিশেষ নেতার ওপর নির্ভরশীল না থেকে সরাসরি নিজেদের শক্তিতেই বিধানসভার লড়াই লড়তে তারা প্রস্তুত। হুমায়ুন কবীরের মতো নেতাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত আসন রফা বা আদর্শগত কারণে সেই ঐক্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং মিম মনে করছে যে বাংলার মুসলিম ভোটাররা হায়দ্রাবাদের এই দলটিকে তাদের অধিকার আদায়ের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখছে। বিরোধীরা যদিও এই পদক্ষেপকে বিজেপির সুবিধা করে দেওয়ার একটি কৌশল বা 'বি-টিম' তকমা দিয়ে আক্রমণ শানাচ্ছে, কিন্তু মিম সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে যে তারা বাংলার বঞ্চিত মানুষের উন্নয়নের স্বার্থেই লড়বে। উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের নির্বাচনে মিম যেভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল, ঠিক সেই ধাঁচেই বাংলার নির্বাচনে এককভাবে লড়ে তারা নিজেদের গুরুত্ব প্রমাণ করতে চাইছে, যা আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যের ত্রিভুজ বা চতুর্ভুজ লড়াইকে আরও জটিল ও নাটকীয় করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত ওয়েইসির এই 'একলা চলো' নীতি বাংলার বিধানসভা ভোটে কট্টরপন্থী মেরুকরণ না কি অন্য কোনো নতুন রাজনৈতিক মেরু তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে হুমায়ুন কবীর বা অন্য কোনো স্থানীয় শক্তির হাত ছেড়ে মিমের এই একক লড়াইয়ের ঘোষণা রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণে বড়সড় এক রাজনৈতিক ভূমিকম্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad