রাতদিন ওয়েবডেস্ক : এসআইআর ইস্যু ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই রবিবার রাতে কলকাতায় পৌঁছাল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার-সহ মোট ১২ জনের প্রতিনিধিদল রাজ্যে এসেছে। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার।সোমবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকে অংশ নেবে রাজ্যের শাসক দলও। তৃণমূলের প্রতিনিধিদলে থাকবেন রাজ্যের প্রাক্তন মহাপরিচালক এবং বর্তমানে রাজ্যসভার প্রার্থী। রাজ্যের শাসক দলের হয়ে এই প্রথম কোনও বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছেন তিনি।তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই প্রতিনিধিদলে আরও থাকবেন রাজ্যের মন্ত্রী এবং মন্ত্রী।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নামঞ্চেও উপস্থিত ছিলেন রাজীব কুমার।এসআইআর ইস্যুতে রাজ্যের শাসক দলের ধর্না রবিবার তৃতীয় দিনে পড়েছে। এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদল রাজ্যে পৌঁছনোয় রাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। রবিবার রাতে কলকাতায় পৌঁছনোর পরে বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও রয়েছেন দুই উপ-কমিশনার। এর পাশাপাশি কলকাতায় পৌঁছেছেন উপ-নির্বাচন কমিশনার। কমিশনের মহাপরিচালক, উপ-পরিচালক পি পবন, অপূর্ব কুমার সিংহ এবং ভিডিও সম্পাদক রঞ্জিতকুমার শ্রীবাস্তবও রাজ্যে আসছেন।রবিবার রাতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের গাড়ির বহর ভিআইপি রোড দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে বিক্ষোভ দেখান একটি বামপন্থী দলের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা ‘ফিরে যাও’ স্লোগান তুলেছেন বলেও জানা গিয়েছে।কমিশন সূত্রে খবর, সোমবার সকাল ১০টা থেকে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
সে জন্য রাজ্য এবং কেন্দ্রের মোট আটটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলকে ডাকা হয়েছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক হবে এবং প্রত্যেক দলকে ১৫ মিনিট করে সময় দেওয়া হয়েছে।এর পরে সোমবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ভোটপ্রস্তুতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা রয়েছে কমিশনের। সেই বৈঠকে কেন্দ্র ও রাজ্যের মোট ২৪টি সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে ডাকা হয়েছে বিভিন্ন জেলার মহাপরিদর্শক, উপ-মহাপরিদর্শক, পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিক, পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকদের।অন্য দিকে, এসআইআর ইস্যুতে বিবেচনাধীন ভোটারদের সংখ্যা নিয়েও আলোচনা চলছে। রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় আট লক্ষ ভোটারের বিষয় নিষ্পত্তি হয়েছে।নির্বাচনের আগে এই ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
