Type Here to Get Search Results !

Bonus Hiked : রাজ্য সরকারি কর্মীদের বড় পাওনা, উৎসবের আগে বাড়ল অ্যাড-হক বোনাস ও উৎসব অগ্রিম

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য খুশির খবর নিয়ে এল নবান্ন, যেখানে আসন্ন উৎসবের মরসুমের আগেই অ্যাড-হক বোনাস এবং উৎসব অগ্রিমের পরিমাণ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের জন্য যোগ্য সরকারি কর্মচারীদের বোনাসের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে সরাসরি উপকৃত হবেন লক্ষ লক্ষ কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। 

নবান্নের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব অ-গেজেটেড সরকারি কর্মচারী এবং স্বশাসিত সংস্থা, পঞ্চায়েত ও স্থানীয় পুরসভাগুলিতে কর্মরত ব্যক্তিরা এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন, তাদের অ্যাড-হক বোনাস ৫,৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫,৫০০ টাকা করা হয়েছে, যা কর্মীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এর পাশাপাশি, মুসলিম সম্প্রদায়ের কর্মচারীদের ইদের আগে এবং অন্যান্য ধর্মের কর্মীদের আসন্ন শারদীয়া দুর্গাপূজার আগে এই অর্থ প্রদান করা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। বোনাস পাওয়ার জন্য বার্ষিক বেতন বা পারিশ্রমিকের একটি নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে ২০২৪ সালের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত যে সমস্ত কর্মচারীদের মাসিক বেতন ৩৯,০০০ টাকার নিচে ছিল, তারাই মূলত এই বোনাস পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে শুধু বোনাসেই ইতি টানেনি সরকার, উৎসবের খরচ সামলাতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য ফেস্টিভ্যাল অ্যাডভান্স বা উৎসব অগ্রিমের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে যেখানে উৎসব অগ্রিম হিসেবে ১৬,০০০ টাকা পাওয়া যেত, সেখানে বর্তমান বিজ্ঞপ্তিতে তা বাড়িয়ে ১৭,০০০ টাকা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ সুদমুক্ত এবং এই টাকা আগামী ১০ মাসের সহজ কিস্তিতে কর্মচারীরা পরিশোধ করতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, এই অগ্রিম টাকা মূলত সেই সমস্ত কর্মচারীদের জন্য যারা ৪২,০০০ টাকা থেকে ৪৯,০০০ টাকার মধ্যে মাসিক বেতন পান। একই সঙ্গে রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের জন্যও সুখবর রয়েছে, কারণ তাদের জন্য এককালীন উৎসব ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ২,৯০০ টাকা করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ২,৭০০ টাকা। 

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের কোষাগারের ওপর বড়সড় আর্থিক চাপ পড়লেও, কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং বর্তমান বাজারদরের কথা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বিরোধী পক্ষ এবং সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মতো কর্মচারী সংগঠনগুলি মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র বকেয়া মেটানোর দাবি জানিয়ে আসছে, তবুও উৎসবের আগে বোনাস ও অগ্রিমের এই সামান্য বৃদ্ধি কিছুটা হলেও আর্থিক স্বস্তি দেবে সাধারণ স্তরের কর্মীদের। মূলত গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি পর্যায়ের কর্মচারীরা এই সিদ্ধান্তের ফলে সবথেকে বেশি লাভবান হবেন, যা উৎসবের কেনাকাটা ও উদযাপনে বিশেষ সহায়ক হবে। রাজ্য অর্থ দপ্তর ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকা সমস্ত সরকারি বিভাগে পাঠিয়ে দিয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাতে এই অর্থ বন্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর এই ধরণের আর্থিক ঘোষণা সরকারি মহলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং আসন্ন উৎসবের দিনগুলিতে জনমানসে বাড়তি উদ্দীপনার সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বোনাস বৃদ্ধি কেবল কর্মচারীদের মনোবল বাড়াবে না, বরং গ্রামীণ ও শহরতলীর অর্থনীতিতেও গতির সঞ্চার করবে কারণ উৎসবের কেনাকাটার মাধ্যমে এই বিশাল অঙ্কের টাকা সরাসরি বাজারে প্রবেশ করবে। সব মিলিয়ে রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যেও সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই উপহার নবান্নের পক্ষ থেকে একটি বড়সড় ইতিবাচক সংকেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad