রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগেই সতর্ক করবে অ্যাপ। গত কয়েক মাসে একাধিকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে কলকাতায়। আজ, শুক্রবার দুপুরেও কেঁপে উঠেছে তিলোত্তমা। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.০। হঠাৎ কম্পন টের পেয়েই প্রাণ হাতে করে বহুতল থেকে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসেন বহু মানুষ। রাস্তায় নেমে কার্যত শ’য়ে শ’য়ে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শুধু কলকাতা নয়, গত কয়েক মাসে দেশের একাধিক রাজ্যেও কেঁপে উঠেছে মাটি।এই পরিস্থিতিতে অনেকেই ভাবছেন, আগাম সতর্কবার্তা কি পাওয়া সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোপুরি আগাম পূর্বাভাস দেওয়া না গেলেও কয়েক সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা পাওয়া সম্ভব। আর সেই সুযোগই করে দিচ্ছে স্মার্টফোনের বিশেষ ফিচার ও কিছু নির্দিষ্ট অ্যাপ।অ্যান্ড্রয়েড ফোনে রয়েছে “Earthquake Alerts System” নামে একটি ইনবিল্ট ফিচার।
এটি গুগলের নিজস্ব ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থা। আলাদা করে অ্যাপ ডাউনলোড না করেও এই সুবিধা পাওয়া যায়। তবে সেটিংসে গিয়ে একটি অপশন চালু করতে হবে। প্রথমে ফোনের সিস্টেম সেটিংসে যান। সেখানে ‘লোকেশন’ অপশন বেছে নিন। এরপর ‘সেফটি ও এমারজেন্সি’ বিভাগে গেলে পাওয়া যাবে ‘আর্থকোয়েক অ্যালার্ট’ বা ভূমিকম্প সতর্কতা। সেটি অন করে দিলেই আপনার কাজ শেষ। কম্পন শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে ফোনে অ্যালার্ট চলে আসবে। তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরাই পাবেন।এছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু থার্ড পার্টি অ্যাপ, যা ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা দিতে সক্ষম। তার মধ্যে অন্যতম হল MyShake App। এই অ্যাপটি তৈরি করেছে University of California এবং অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে। বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং ব্যবহারকারীদের ফোনের সেন্সর কাজে লাগিয়ে এটি কম্পনের প্রাথমিক তরঙ্গ শনাক্ত করতে পারে। ফলে বড় কম্পন আসার আগে সতর্কবার্তা পাঠানো সম্ভব হয়।আরও একটি জনপ্রিয় অ্যাপ হল Earthquake Network App।
এই অ্যাপ ফোনের অ্যাক্সিলোমিটার ব্যবহার করে কম্পন শনাক্ত করে। কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় একাধিক ফোনে একই ধরনের কম্পন ধরা পড়লে তা বিশ্লেষণ করে দ্রুত অ্যালার্ট পাঠায়। ফলে ব্যবহারকারীরা কয়েক সেকেন্ড আগে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান।BhuDev নামের একটি অ্যাপ তৈরি হয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকার ও IIT Roorkee-র যৌথ প্রচেষ্টায়। এই অ্যাপটিও ভূমিকম্প সংক্রান্ত সতর্কতা ও তথ্য সরবরাহ করে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় এটি কার্যকর বলে মনে করা হয়।এছাড়াও রয়েছে My Earthquake Alerts & Map। বিশ্বজুড়ে কোথায় কখন ভূমিকম্প হচ্ছে, তার তথ্য ও অ্যালার্ট পাওয়ার জন্য এই অ্যাপটি উপযোগী। মানচিত্রে ভূমিকম্পের অবস্থান, মাত্রা এবং সময় দেখা যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের সময় প্রথমে যে প্রাথমিক তরঙ্গ আসে তা তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর। তার পরেই আসে শক্তিশালী তরঙ্গ, যা মূল ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। এই দুই তরঙ্গের মধ্যবর্তী অল্প সময়কেই কাজে লাগায় সতর্কতা ব্যবস্থা। যদিও সময় খুব কম, তবুও লিফট এড়িয়ে চলা, নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া বা গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করার মতো জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রযুক্তির সাহায্যে এখন হাতের মুঠোয় মিলছে আগাম সতর্কবার্তা। তাই এখনই ফোনের সেটিংস দেখে নিন বা নির্ভরযোগ্য অ্যাপ ডাউনলোড করুন। কারণ কয়েক সেকেন্ডের সতর্কতাই বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

