রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কঙ্কাল বেরিয়ে গিয়েছে রাস্তার। জায়গায় জায়গায় গর্ত, তার উপর ছড়িয়ে রয়েছে নুড়িপাথর। সেই বেহাল রাস্তাতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা চারচাকা গাড়িতে ধাক্কা মারলেন দুই বাইক-আরোহী। অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেল। উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়া শহরে সোমবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ভোরবেলা ইটাওয়ার একটি ব্যস্ত রাস্তায় ঘটনাটি ঘটে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে কঙ্কাল বেরিয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। তার উপর ছড়িয়ে রয়েছে নুড়িপাথর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু দিন ধরেই এই রাস্তার এমন বেহাল দশা, কিন্তু মেরামতির কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি।ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, দুই যুবক বাইক নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। হঠাৎই নুড়িপাথরে চাকা পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারায় বাইক। ঠিক সেই সময় উল্টো দিক থেকে একটি চারচাকা গাড়ি আসছিল। বাইকটি সোজা গিয়ে গাড়ির এক পাশে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার জোরে দু’জনেই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। মুহূর্তের জন্য পরিস্থিতি আতঙ্কজনক হয়ে ওঠে।তবে সৌভাগ্যবশত বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো যায়। গাড়ির চালক সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থামিয়ে নেমে আসেন। আশপাশের লোকজনও দ্রুত ছুটে আসেন সাহায্যের জন্য। উপস্থিত মানুষেরা গাড়ির চালককে আশ্বস্ত করেন যে, দুর্ঘটনার জন্য তিনি দায়ী নন। রাস্তার বেহাল অবস্থাই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে মত স্থানীয়দের।এরপর আহত দুই যুবককে রাস্তা থেকে উঠিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের বাইকটিও সরিয়ে নেওয়া হয়। যদিও গুরুতর আঘাতের খবর মেলেনি, তবু এই ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সামান্য এদিক-ওদিক হলেই বড়সড় বিপর্যয় ঘটতে পারত।৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে ‘ছপরা জিলা’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন। লাইক ও মন্তব্যের বন্যা বয়ে গিয়েছে।
নেটাগরিকদের একাংশ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, আবার অনেকে উদ্বেগও জানিয়েছেন। এক জন লিখেছেন, “স্থানীয় প্রশাসনের ঘুম ভাঙার আগে কাউকে না কাউকে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে হবে এই রাস্তায়।” অন্য এক জনের মন্তব্য, “অলৌকিক ভাবে প্রাণে বেঁচেছে ওরা। রাস্তায় এ ভাবে নুড়ি পড়ে রয়েছে কেন? আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।”ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত রাস্তা মেরামত না করলে ভবিষ্যতে আরও মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নিয়মিত নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ।সব মিলিয়ে, সোমবার ভোরের এই দুর্ঘটনা আবারও সামনে আনল শহরের পরিকাঠামোর দুর্বল দিক। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও, বেহাল রাস্তার কারণে যে কোনও সময় বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করছেন স্থানীয়েরা। প্রশাসন কবে সক্রিয় পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

